চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে এখনও ৫০ ভারতীয় সেনা আটক রয়েছে

833 Shares

চীনা আর্মি’র সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিং এক্সি টুইটে জানালেন, তাদের কাছে এখনও ৫০ ভারতীয় সেনা আটক রয়েছে। চায়না পোস্ট ও পলিটিকো এতথ্য প্রকাশ করেছে ।

জিং এক্সি টুইটটি করেছিলেন চলতি বছরের ২২ মে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় সেনারা চীনকে উস্কানি দেয়। এর ফল ভালো হবে না। এমন উস্কানি দিলে ভারত থেকে লাদাখের নাম মুছে দেবে তারা।

বুধবার তার এ পোস্টটি চীন, ভারতসহ বাংলাদেশে ভাইরাল হয়। জিং এক্সি গতকাল বুধবার টুইটে শুধু বলেছেন, চীন ঠিক কাজই করেছে। চীনা প্রেসিডেন্টও বুধবার বলেন, তারা এখন ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চান না। ভারত নিজেকে সংযত রাখুক।

চীনা আর্মির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা চাই ভারত তার সম্মুখ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করুক। বন্ধ করুক সব উস্কানিমূলক পদক্ষেপ। এরপর মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও আলোচনার সঠিক পথে ফিরতে চীনের সঙ্গে কাজ করুক।

লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সৈন্যদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ভারতের একজন কর্নেল পদমর্যাদার সেনাসহ মোট ২০ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন গত মঙ্গলবার।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই দাবি করেছে , এ সংঘর্ষে চীনের অন্তত ৪৩ সেনা নিহত অথবা গুরুতর আহত হয়েছেন।

১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম চীন ও ভারতের মধ্যে প্রাণহানি হওয়ার মতো এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো। ১৯৬২ সালে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয় ।

সামনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে’ ভারতকে ফের হুমকি চীনের

উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই সংঘর্ষ। লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনার সংঘর্ষ ঘিরে বিশ্ব মিডিয়াতেও চলছে আলোচনা। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে আবারও হুঁশিয়ারি দিল বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান এদিন বলেন, “ভারতীয় বাহিনী যেন সীমান্ত পেরনো বা এক তরফা পদক্ষেপের মতো কিছু না করে, তার ফলে আরও জটিল হতে পারে সীমান্ত পরিস্থিতি।”

তার মতে দুই দেশই শান্তিরক্ষার জন্য উত্তেজনা প্রশমন করতে আলোচনা চালাচ্ছিল। শান্তি বিঘ্নিত করে সংঘর্ষের দায় কার্যত ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র।

শুরু থেকে ঘটনার যাবতীয় দায় ভারতের উপরেই চাপিয়ে দিচ্ছে চীন। মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানায়, “ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে চিনা বাহিনীর উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল।”

সেই হামলার পাল্টা উত্তর দিতেই চীন আক্রমণ করে, দাবি বেইজিংয়ের। সেই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে নয়াদিল্লি যেন কোনও নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, সে বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষ নিয়ে গতকাল রাত্রে আলোচনায় বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চার মন্ত্রী। ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ছিলেন ভারতীয় সেনার চিফ জেনারেল এমএম নারাভানে। বুধবার নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তা মোকাবিলা করতে সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে কেন্দ্র।

শান্তি বজায় রাখার সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা করা হলেও সীমান্তে ভারতের এলাকায় চীনের কোনোরকম প্রবেশ ও আগ্রাসন মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত।

833 Shares