স্রোতে ভেসে যাওয়া কালভার্টে ‘রড’ ছিলো না

169 Shares

কক্সবাজার পৌর এলাকায় উদ্বোধনের আগেই একটি কালভার্ট বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে। দুই দিনের বৃষ্টিতে এক নম্বর ওয়ার্ডের কুতুব বাজার এলাকায় সেতুটি ভেঙে পড়ে। পৌরসভার দরপত্রে কালভার্টের নির্মাণ কাজ পেয়েছিলেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস আই এম আক্তার কামাল আজাদ।

জানা গেছে, সম্প্রতি সেতুটির নির্মাণ শেষ হয়। সংযোগ সড়ক তৈরি করে আগামী মাসে উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুল্লাহ কোম্পানি বলেন, ব্রিজটি নির্মাণে রড ব্যবহার করা হয়নি। গত বুধবার ব্রিজটি ভেঙে অর্ধেক পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি অংশে কোনো রড দেখিনি, শুধু সিমেন্ট দেখেছি।

স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া এলাকার সড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণ হচ্ছিল। ইতোমধ্যে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, বাকি ছিল এ্যাপ্রোচ সড়কটি। এরই মধ্যে গত তিন দিনের ভারি বর্ষণে পানির স্রোত আস্ত কালভার্টটি ভাসিয়ে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সবার মাঝে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরছে, ‘কোন পর্যায়ের অনিয়ম হলে এভাবে একটি কালভার্ট ককসিটের মতো ভেসে যেতে পারে?’

বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া কালভার্টটি নির্মাণ করছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস আই এম আক্তার কামাল আজাদ। নিয়মে না থাকলেও পৌরসভার দরপত্রে কালভার্ট নির্মাণ কাজ পেয়েছিলেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরই। তবে, কত টাকায় কাজটি করা হচ্ছিল তা সঠিক জানা যায়নি।

এক নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুল্লাহ কোম্পানি বলেন, ব্রিজটি নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। উপরে যে অংশ দেখা যাচ্ছে তাতে কোনো রড দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু সিমেন্ট আর বালির উপস্থিতি রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি থেকে মাত্র ৪০ ফুট দূরে জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে আরও একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। অনবরত ভারি বর্ষণে পানির তোড়েও সেটি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হওয়ায় পৌরসভার করা কালভার্টটিতে চরম এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

তবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নিজেকে সেতুর ঠিকাদার হিসেবে অস্বীকার করেন কাউন্সিলর আক্তার কামাল আজাদ। তিনি বলেন, সাগরের পানি যাতে ব্রিজের গোড়ায় না আসে সে জন্য আমরা একটা বাঁধ দিয়েছিলাম। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে বাধের মধ্যে সাত-আট ফুট পানি জমে যায়। পানি সরানোর জন্য বাঁধটির একটা অংশ কেটে দিলে স্রোত সৃষ্টি হয়। সেই স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেছে।

এদিকে, নিজেরা দুর্ভোগে পড়লেও এমন ঘটনায় খুশি স্থানীয়রা! ব্রিজটি চালুর পর যাতায়াত শুরু হলে এমন ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি ঘটত বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

169 Shares