স্বৈরশাসক সিসির পদত্যাগের দাবিতে এখনো বিক্ষোভে উত্তাল মিশর

0 Shares

গত কয়েক দিন যাবত মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তা আল সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের ষষ্ঠ দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের ধর পাকড়ের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিন জুমার নামাজ শেষে রাজধানী কায়রোসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সিসিবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। আর এই বিক্ষোভের নাম দেয়া হয়- ‘দ্রোহের শুক্রবার’।

বৃহত্তর কায়রো এলাকার হেলওয়ানে অনুষ্ঠিত এক মিছিলের ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যায়- ‘ভয় পাবেন না, জোরে বলুন- এল সিসিকে সরে যেতে হবে।’

গিজা এলাকার বিক্ষোভে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে। দামিয়েত্তা শহর এলাকায় পুলিশ জনতার ওপর লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। শহরটির একটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিও ছুড়েছে।

স্বায়ত্তশাসিত গিজা এলাকার আল-ব্লিদা গ্রামে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে সামি ওয়াগদি নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

যদিও বেশকিছু জায়গায় পরদিনও শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ চলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করছেন নেটিজেনরা।

আরও পড়ুন : উত্তেজনা বাড়িয়ে ‘রাদ-৫০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনল ইরান

গত সপ্তাহের শুরুতে দেশটির অন্যতম অঞ্চল গিজায় এ বিক্ষোভ শুরু হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদ আলী নামে একজন সাবেক সামরিক ঠিকাদারের ডাকে মিশরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।

ওই ঘটনার এক বছর পূর্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ আলী ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিলে গোটা দেশে সতর্কতা জারি করে সরকার।

বিক্ষোভের আগেই এক অভিযানে বামপন্থী নেতা আমিন আল মাহদিসহ বেশ কয়েকজন অ্যাকটিভিস্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ আলী একই সাথে একজন ব্যবসায়ী ও অভিনেতা। তিনি জানিয়েছিলেন, তার কোম্পানি মিশরের সেনাবাহিনীর প্রকল্পের কাজ করত।

আরও পড়ুন : অবশেষে এরদোগানের কাছেই মাথা নোয়াল গ্রিস

২০১৯ সালের সেই বিক্ষোভ দমনে বড় ধরনের অভিযান চালায় সিসি সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, অভিযানে শতাধিক অল্পবয়সীসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী।

সূত্র : আল-জাজিরা

0 Shares