স্বাস্থ্যের কর্মচারী রুহুলের আছে ২০০ কোটি টাকার সম্পদ!

0 Shares

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রোগ্রামার (এমএসআই) রুহুল আমিন টেন্ডার ছাড়াই কাজ করে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহে তার ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুধু তাকেই নয়, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তলব দুদক। আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের ব্যবস্থা নিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দেয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শামছুল আলমের সই করা পাঠানো পৃথক নোটিশে এ কথা বলা হয়েছে।

২০১৯ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৭৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে দুদক। এদের মধ্যে ১২ জনের নামে মামলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিরি গাড়িচালক মালেকসহ ১১ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অঢেল সম্পদের খোঁজ পাওয়ায় তাদের সম্পদের হিসেবে চেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নোটিশ দেয় দুদক।

দুদকের নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরে সিন্ডিকেট গড়ে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন ও বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপনার অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ খুবই প্রয়োজন।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত তারিখে নিজ ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট, এনআইডি কার্ড ও আয়কর রিটার্নসহ দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানানো হলো।

এরমধ্যে ১৩ অক্টোবর তলব করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রোগ্রামার (এমএসআই) রুহুল আমিন, প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, স্টেনোগ্রাফার শাহজাহান ফকির ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবুল সোহেলকে।

১৪ অক্টোবর তলব করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী শাহনেওয়াজ ও শরিফুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী (কমিউনিটি ক্লিনিক শাখা) আনোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী হানিফকে।

১৫ অক্টোবর তলব করা হয়েছে অফিস সহকারী (এনসিডিসি) ইকবাল হোসেন, অফিস সহকারী মাসুম করিম, আলাউদ্দিন ও স্টোরকিপার সাফায়েত হোসেন ফয়েজকে।

গেল বছর স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে দুদকের একজন পরিচালকের নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা শাখার বিশেষ টিম ৪৫ জন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করে দুদকে দাখিল করে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালীন মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ও সিএমএসডি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৭ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। যাদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

দুদকের গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস সহকারীসহ ২৮ জন কোটিপতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এরমধ্যে যাদের তলব করা হয়েছে তাদের ৭ জনের নাম রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রোগ্রামার (এমএসআই) রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সাবেক একজন মহাপরিচালককে ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করেন। কোনও টেন্ডার ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়ে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। ঢাকা ও ময়মনসিংহে তার ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ইপিআইর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিল করতেন। কর্মচারী সমিতির সভাপতি হয়ে তিনি এমন এক সিস্টেম তৈরি করেছেন কোনও অফিস সহকারীকে কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিলে জাহাঙ্গীর আর্থিকভাবে সুবিধা পেতেন। যারা পদোন্নতির আবেদন করতেন আগেই তাদের কাছ থেকে তার এজেন্টরা অর্থ আদায় করতেন। সমিতির নামে চাঁদা ও টেকনিশিয়ান হিসেবে পদোন্নতির অর্থ আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

স্টেনোগ্রাফার শাহাজাহান ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে একই স্থানে থাকায় এবং একজন পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হওয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে শুধুমাত্র বিলবোর্ড সরবরাহ করেই কোটি কোটি টাকা হারিয়ে নেয়ার অভিযোগ এসেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অফিস সহকারী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

0 Shares