৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত না নিলে ২২ লাখ বাংলাদেশিকেও পাঠিয়ে দেবে সৌদি সরকার!

0 Shares

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করায় দেশে আটকেপড়া সৌদি আরবে কর্মরতদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছুই করা নেই। অনেকের চাকরি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার বাংলাদেশি পাসপোর্টে থাকা রোহিঙ্গাদেরও ফেরত দিতে চায় সৌদি সরকার।

সৌদির বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে দেশে আসা সৌদি কর্মরতদের না যেতে পারার কারণ জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি এ কথা বলেন।

সৌদি প্রবাসী যারা দেশে এসে আবার ফিরে যেতে পারছে না, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থাপনা নিচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমরা বলতে পারবো না, এটা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়য়ের এখতিয়ারে।

সৌদি আরব থেকে কোভিডের সময় অনেকে দেশে ফিরেছিলেন, সেখানে কোনও ফ্লাইট না থাকায় তারা ফিরে যেতে পারছেন না। এখন শুনলাম ৩০ তারিখের মধ্যে সৌদি যেতে না পারলে ওয়ার্ক পারমিট থাকবে না। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যতগুলো ফ্লাইট যাওয়ার কথা ছিল, বিমানের সবগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ না সব দেশের ফ্লাইটই বন্ধ। আবার তাদের দেশে কোভিড দেখা দিচ্ছে, সেজন্য তারা সারা দুনিয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, একটা পসিবলটি হলো চার্টার ফ্লাইট, তবে চার্টার ফ্লাইটে অনেক খরচ পড়ে। সৌদি আরব বলছে তাদের ফ্লাইট নিয়ে আসবে। তবে সৌদি আরব অন্যদিকে চাপ দিচ্ছে, সেখানে সৌদি আরবে ২ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা আছে। ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিতে চায় তারা। আমরা এগুলো জানিও না। এই রোহিঙ্গারা অনেকে ৮০ থেকে ৯০ সালে সৌদি গিয়েছে। তখন ওই দেশের রাজা নাকি বলেছিল রোহিঙ্গারা আসুক। সেই সূত্রে ওরা যায় সেখানে।

তাদের ছেলে মেয়ে ওখানে বড় হয়েছে, তারা আরবি ছাড়া কিছুই জানে না। কিন্তু সৌদি সরকার বলছে রোহিঙ্গা মানে বাংলাদেশের, এদের তোমারা নিয়ে যাও। আমরা বলছি ন্যাশনালটি না হলে আমরা নিতে রাজি না। সৌদি আরব বলছে তোমাদের যে ২২ লক্ষ আছে তাদের সব ফেরত দিয়ে দিবো, এছাড়া নতুন কাউকে নিবো না। এ রকম একটা সমস্যা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা বলছে ৫৪ হাজার রোহিঙ্গাকে আগে নিয়ে যাওয়ার পর কথা বলব। তারা এখন কিছু বলছে না, তবে এ নিয়ে আমাদের যোগাযোগ জারি রয়েছে।

0 Shares