সুলতান মনসুরের রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক

0 Shares

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যারা শেখ হাসিনার স্নেহ পেয়েছেন এবং তার হাতে বিকশিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যারা শেখ হাসিনার বিশ্বাস এবং আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তাদের মধ্যেও অন্যতম হলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ছিলেন প্রবল সম্ভাবনাময়। শেখ হাসিনা নিজের হাতে তাকে গড়ে তুলেছিলেন এবং শেখ হাসিনার কারণেই ডাকসুর নির্বাচনে তিনি সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর ডাকসুতে ছাত্রলীগের একজন নেতা আসীন হয়েছিলেন।

এরপর পরই মনে করা হয়েছিল, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরই হবেন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা। কিন্তু তিনি সেই ভবিষ্যৎ বাণীকে নিজেই ব্যর্থ করেছেন। শেখ হাসিনা তার প্রতি যে আস্থা, বিশ্বাস এবং স্নেহ দেখিয়েছিলেন তার প্রতিদান তিনি দিতে পারেননি। বরং উচ্চাশার কারণে বি’পথে গিয়েছেন। যা ছিল তার রাজনীতির কফিনের শেষ পেরেক। তিনি বঙ্গবন্ধুরর আদর্শ থেকে সরে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতেও পেরেছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে সরে গেলে রাজনৈতিকভাবে মৃ’ত্যু ঘটে- এটা তিনি ভুলে গেছেন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর রাজনীতিতে পাদপ্রদীপে আসেন ডাকসুর নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তাকে আস্তে আস্তে টেনে তোলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু মনসুর তার উৎস ভুলে যান। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি হয়ে ওঠেন সংস্কারপন্থী। শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার ফর্মুলা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ক্রিয়াশীল ছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। তার মতো অনেকেই ভেবেছিলেন, ওয়ান ইলেভেন সরকার টিকে থাকবে এবং এক পর্যায়ে হয়তো শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে সরে যাবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক শক্তির শেকড় যে অনেক গভীরে এবং জনতার শক্তিতেই তিনি শক্তিমান, এটা মনসুর বুঝতে পারেনি।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ভেবেছিলেন, ওয়ান ইলেভেন সরকারের সঙ্গে থাকলে তিনি মন্ত্রীত্ব পাবেন কিংবা নতুন মেরুকরণের মাধ্যমে মাইনাস ফর্মুলায় যে আওয়ামী লীগ হবে সেখানে তিনি বড় নেতৃত্ব পাবেন। এটা ছিল তার আশা। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেখ হাসিনা ছাড়া অস্তিত্বহীন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বোধ হয় ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের কথাও ভুলে গিয়েছিলেন, যে সময় আওয়ামী লীগ কয়েক ভাগে বি’ভক্ত হয়ে গিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ কো’ন্দল এবং নেতৃত্বের বিরো’ধ আওয়ামী লীগকে অস্তিত্বের সং’কটে ফেলেছিল।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর রাজনীতিতে অনেক কিছু পেয়ে একটু বেশিই কি আশাবাদী হয়ে গিয়েছিলেন? যে কারণে তিনি মনে করেছিলেন, মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পারলে আরো এগিয়ে যাওয়া যাবে। অথচ শেখ হাসিনার আদর্শের প্রতি অনুগত থাকলে, বিশ্বস্ত থাকলে তিনি নিশ্চয়ই রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে পারতেন।

ওয়ান ইলেভেনের পর সুলতান মোহাম্মদ মনসুর নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। ওয়ান ইলেভেনের পর সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের রাজনীতির কফিন তৈরী হয়ে যায়। আর ২০১৮ এর নির্বাচনের মাধ্যমে একজন মুজিব সৈনিকের রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। মনসুর এ বছর এমপি হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হতে হয়েছে তাকে। যে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ১৯৭৫ এর পর বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন, তাকে ধানের শীষের প্রতীকে আশ্রয় নিতে হলো। তিনি ভুলে গেছেন, বিএনপি হলো সেই দল, যার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডের এক কুশীলব। যে দলটি বার বার বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। খু’নিদের আশ্রয় প্রশ্রয় মদদ সবই দিয়েছিল। তাদেরকে সংসদেও বসিয়েছিল। সুলতান মনসুরের এমপি হওয়ার বাসনা সকল গ্লা’নি মুছে দিয়েছিল নিশ্চয়।

এমপি হয়ে নিজের অতীত যেমন ভুলেছেন, তেমনি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা হয়েছে। এ কারণে রাজনীতিতে একটি কথা বলা হয়, রাজনীতিতে আদর্শের কোন বিকল্প নেই। আনুগত্য ভুলে উচ্চাশার স্বপ্ন থেকে পরিসমাপ্তি। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর একটি দৃষ্টান্ত বাংলাইসাইডার।

0 Shares