সিএনজিচালক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা, রাতারাতি বেগমগঞ্জের ডন!

0 Shares

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নুর হোসেন ওরফে বাদলকে (২৩) ঢাকা থেকে এবং দেলোয়ার হোসেনকে (২৬) নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এই ঘটনায় আলোচনায় এলেও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক পদে না থাকলেও অ’নৈতিকভাবে দলের প্রভাব খাটিয়ে ত্রা’সের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ এ দু’জনের বিরু’দ্ধে।

র‍্যাব জানায়, এ ঘটনায় ওই নারীর করা মামলার এজাহারে দেলোয়ারের নাম না থাকলেও আসামিরা সবাই তারই লোক। তারা একত্রে চলাফেলা করে এবং নানা অপ’কর্ম করে।

জানা গেছে, বছরখানেক আগের পেশায় সিএনজিচালক দেলোয়ার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি বনে যায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ডন। গড়ে তোলে দেলোয়ার বাহিনী। তারপর থেকেই বে’পরোয়া সে। এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদা’বাজি, হাইজ্যাকিং, মা’দক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপ’কর্ম করলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কেউ। তাদের আটকের খবরে স্বস্তি ফিরে আসে এলাকায়। দাবি জানান দ্রুত সাজা নিশ্চিতের।

এছাড়াও আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে থেকেই একাধিক খু’ন ও মা’দক মামলার আসামি দেলোয়ার।

স্থানীয়রা বলেন, উচিত বিচার দিয়েন। আজকে আমার বোনেরে ধ* করছে কাল মারে করবে পরশুদিন আরেকজনকে করবে। আরেকজন বলেন, আজকে তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন অপ’কর্মের সঙ্গে জড়িত।

এদিকে আওয়ামী লীগে যোগদান করলেও কোনো পদে না থেকেও তার দাপটে কোণঠাসা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা, জানালেন দলের কর্মীরা।

একজন আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করি কিন্তু এদেরকে কখনও দেখিনি আওয়ামী লীগ করতে। যারা অপ’কর্ম করছে তারা নিজের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করে।

নোয়াখালী বেগমগঞ্জ একলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ‌আরেক সদস্য বলেন, আলমগীর কবির আলো এই দেলোয়ারকে যোগ দান করিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর থেকে এলাকায় অপ’কর্ম বেড়ে গেছে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে দেলোয়ার ও বাদলকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, এই দেলোয়ার স্থানীয় মানুষের কাছে একজন মা’দক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার অন্য সহযোগীরা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নারীদের ‍উত্য’ক্ত করতো। দেলোয়ার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রা’সী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। নিরীহ লোকজন থেকে হুম’কি দিয়ে অর্থ আদায় করতো। ওই নারীর ঘটনা ভিডিও করে তাকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ ঘটনায় তারা প্রত্যেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। আমরা বাকিদের ধরতেও অভিযান চলমান রেখেছি।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘরে ঢুকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরের ঘটনার প্রায় ১ মাস পর রোববার (৪ অক্টোবর) ফেসবুকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়। ওই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

0 Shares