সমুদ্রের অধিকার পেতে তুরস্ক সবকিছু করবে: এরদোগান

0 Shares

কৃষ্ণ সাগর, এজিয়ান ও ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক তার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে বদ্ধপরিকর বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

সেলজুক তুর্কিদের বায়জান্টাইন সম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মালাজগার্ট বিজয়ের ১১ শত বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক সম্মেলনে তিনি আঙ্কারার প্রতিপক্ষকে কোন ভুল পদক্ষেপ না নিতে বলেন।

এরদোগান জানান, যে কোন ভুল তাদের ধ্বংস ডেকে আনবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের কোন বিষয় নিয়ে আপস করব না, আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা অন্য কারোর ভূখন্ড, সার্বভৌমত্ব বা ইচ্ছাতে নজর দিচ্ছি না তবে যা আমাদের তাতে ছাড় দিচ্ছি না।

এরদোগান গ্রিসকে এমন সব ভুল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান যা তাদেরকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। ইয়েনি শাফাক ও হুরিয়াত ডেইলি নিউজ

ফিলিস্তিনের হামাস নেতাদের সাথে এরদোগানের সাক্ষাত, উদ্বিগ্ন পশ্চিমারা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান গত শনিবার ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও গাজার শাসক দল হামাসের শীর্ষ নেতাদের সাথে দেখা করেন। এঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কিছু দেশ হামাস কে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া এতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসীর তালিকায় থাকা ডেপুটি চিফ সালেহ আল-আরোওরি উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মরগান অর্টাগাস এক বিবৃতিতে জানান, “তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইস্তাম্বুলে দু’জন হামাস নেতাকে আমন্ত্রণ জানানোয় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।”

হামাসের সাথে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকা উদ্বিগ্ন। এরদোগান ইস্তাম্বুলে ইসমাইল হানিয়ার সাথে গত ফেব্রুয়ারিতেও দেখা করেছিলেন।

এরদোগানের জাস্টিস এন্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি(একেপি) ও হামাস উভয়েই মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত। যারা ইসলামি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে।

ইসরাইল-আমিরাত চুক্তির পর হামাসের সাথে তুরস্কের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বিগ্ন বেশ কয়েকটি দেশ।সুত্র: আরব নিউজ

মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইরান থেকে গ্যাস কিনবে ইরাক

মার্কিন সরকারের চাপ সত্ত্বেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গ্যাস কিনবে ইরাক। ইরাকের তেলমন্ত্রী ইহসান আব্দুল জব্বার গতকাল (মঙ্গলবার) এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার দেশ নিজেই গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে এবং সেইভাবে প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইরান থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইরান থেকে গ্যাস কেনা প্রয়োজন হবে।

ইরাক তার নিজের তেল এবং গ্যাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিজেই পূরণ করুক -এমন চাপ রয়েছে আমেরিকার পক্ষ থেকে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের অবকাঠামো সেই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নয়। ফলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরাক সরকার প্রতিবেশী ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে বাধ্য হয়।

ইরাকের প্রতিদিনের বিদ্যুৎ চাহিদার বিরাট অংশ পূরণ হয় ইরান থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দিয়ে। এছাড়া, বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজেও ইরান থেকে আমদানি করা গ্যাস ব্যবহার করে ইরাক। সুত্র: পার্সটুডে

কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের সিএই-৪ ড্রোন মোতায়েন

চীনের সঙ্গে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) কাছে দীর্ঘ শীতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ওই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ১৪ কোর শীতকালীন প্রস্তুতির জন্য সরকারের কাছে সরঞ্জামের তালিকা পাঠিয়েছে।

একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরে অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১৫ ও ১৬ কোর থেকেও সরকারকে যে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে তাতে মাল্টিপল আন্ডার-ব্যারেল গ্রেনেড ল্যান্সার (ইউবিজিএল), ড্রোন, চাকায় চালিত এপিসি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লেহ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ১৪ কোর সরকারের কাছে ড্রোন, ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর বোট, চাকায় চালিত এপিসি ও অল-টেরেইন ভেহিকেল (এটিভি) চেয়েছে। তারা মনে করছে প্রতিবেশী চীনের সেনাদের সঙ্গে পাবর্ত্য বিরূপ পরিবেশে যুদ্ধ করার জন্য এসব সরঞ্জাম খুবই কাজে দেবে।

তিন কোরের তালিকাই সরকারের হাতে দেয়া হয়েছে। এগুলো এখন সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ড মূল্যায়ন করবে। এর কতকগুলো সেনাবাহিনীর জরুরি আর্থিক ক্ষমতাবলে কেন হবে।

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে কার্যত সীমান্ত লাইন অব কন্ট্রোলের (এলওসি) কাছে পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে পাওয়া সশস্ত্র ড্রোন সিএইচ-৪ মোতায়েন করেছে বলে খবর প্রকাশের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা দেয়। ওই এলাকায় ভারতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার জন্য পাকিস্তান এসব ড্রোন মোতায়েন করছে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্র জানায়, ১৫ ও ১৬ কোর ৩৫০টির মতো উইবিজিএল চেয়েছে। রাইফেলের ব্যারেলের নিচে এগুলো সংযোজন করা যায় এবং এগুলো দিয়ে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে গ্রেনেড ছোঁড়া যায়।

এছাড়া জঙ্গিদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বিভিন্ন ধরনের সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা চাওয়া হয়েছে। তালিকায় ইসরাইলের তৈরি ৫০টি স্পাইক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ল্যান্সার ও নজরদারি চালানোর জন্য ১৫টি ড্রোনও রয়েছে। সুত্র: ইউরোশিয়ান টাইমস

ভূমি ফিরিয়ে না দিলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিবে না ওআইসি’র সদস্য দেশসমূহ

অবৈধভাবে আরব ও ফিলিস্তিনের ভূমিদখল বন্ধ না করা পর্যন্ত সদস্য দেশসমূহ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না বলে জানিয়েছে অরগানাইজেশান অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ইউসুফ আল উথাইমিন এক বিবৃতিতে একথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ওআইসির সদস্য দেশসমূহ এবং ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের মধ্যে ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত জেরুসালেমসহ আরব ও ফিলিস্তিনের ভূমিদখল বন্ধ না করবে।”

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে বৈরুতে অনুষ্ঠিত আরব সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত সমস্ত আরব দেশ থেকে ইসরাইলী অবৈধ দখল প্রত্যাহারের বিনিময়ে আরব দেশ ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু ইহুদীবাদী ইসরাইলী সরকার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

সম্প্রতি গত ১৩ আগস্ট আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে একটি বিতর্কিত চুক্তি ঘোষণা করা হয়। যে চুক্তির মাধ্যমে মূলত ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় আরব আমিরাত। কিছু আরব দেশ ছাড়া বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ এ চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তুরস্ক পরাশক্তি হওয়ার পথে যে বার্তা দিচ্ছে

নিজেদের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে তুরস্ক। ধারনা করা হচ্ছে কৃষ্ণ সাগরে আবিষ্কার হওয়া গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৩২০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। এরদোয়ান জানান, ২০২৩ সাল থেকে এই গ্যাস ক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য গ্যাস উৎপাদন করা হবে।

“তুরস্ক তার ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে” এমন তথ্য তুরস্ক ও বিশ্বের গণমাধ্যমকে জানিয়ে এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এই গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার তার দেশকে গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে তুরস্ক এখন বদ্ধপরিকর।

বিষয়টি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এরোদোয়ান বলেন, পরম করুণাময় আল্লাহর দেয়া এই উপহার তুরস্কের অর্থনীতিতে উন্নতি এবং দেশের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর জন্য সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, ‘পালনকর্তা আমাদের জন্য অভূতপূর্ব সম্পদের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন।’

এদিকে দেশটির জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এই গ্যাসের মজুদ আবিষ্কারের কারণে তুরস্কের গ্যাস আমদানি অনেকাংশে কমে যাবে। সেই সঙ্গে তুরস্ক স্বাধীনভাবে এই সম্পদে তাদের কর্তৃত্ব অর্জন করবে। সেই সঙ্গে জ্বালানী খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে। তুরস্ক সাধারণ রাশিয়া, আজারবাইজান এবং ইরান থেকে গ্যাস আমদানি করে।

এদিকে এরদোয়ানের জামাতা বেরাত আলবাইরাক যিনি দেশটির অর্থমন্ত্রী, তিনি বলেছেন, তুর্কি সরকার আশা করছেন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার দেশের রিজার্ভে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে। এরদোয়ান নিজেও জ্বালানী খাতের এই আবিষ্কারে উৎসাহী ছিলেন।

দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে তিনি এতটাই আশাবাদী ছিলেন প্রায় বলতেন দেশটির জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা অবশ্যই গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করবেন। সেই সঙ্গে যখন জানলেন এই আবিষ্কারের কথা তখন তিনি বলেন, এই আবিষ্কার চলতেই থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জ্বালানী রফতানিতে সক্ষম হবো।

অন্যদিকে পশ্চিমা গণমাধ্যম এবং তাদের জ্বালানী বিষয়ক গবেষণা মাধ্যমের প্রচার ছিল, গভীর সমুদ্রে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে তুরস্কের কোন সক্ষমতা নেই। কারণ হিসেবে বলা হতো এই কাজের জন্যে যে প্রয়োজনীয় দক্ষ মানুষের দরকার তা তুরস্কের নেই।

তবে এখনও কোন ধরনের বিদেশি অংশীদার ছাড়া এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব সরঞ্জাম ব্যবহার করে গ্যাস অনুসন্ধান করতে সক্ষম হয়েছে তারা। এই আবিষ্কারের পর, তুর্কি বিশেষজ্ঞরা তাদের দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রমাণ করেছেন যে তারা পুরোপুরিভাবে কাজটি করতে সক্ষম।

বিষয়টি নিয়ে এরদোয়ান নিজেই বলেছেন, বাইরের কোন সাহায্য ছাড়া এবং বিপুল পরিমাণ খরচ না করেই তারা এটি করতে সক্ষম হয়েছে।
অবশ্য বৈশ্বিক জ্বালানি খাত বিষয়ক স্বনামধন্য পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেনজি’র বিশেষজ্ঞ টমাস পার্দি বলেছেন, “এটি তুরস্কের সর্বকালের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার এবং এটি ২০২০ সালের বৃহত্তম বৈশ্বিক আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি।”

এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও এখন বলছেন, তুরস্ক বিশ্বের পরাশক্তি হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এই আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। সেই সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণে স্বাধীন শক্তিতে পরিণত হয়েছে তারা।

আর সেইদিন দূরে নয় যেদিন তুরস্ককে আর কারো ভরসায় চলতে হবে না। তারা আরও জানাচ্ছেন, দেশটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী নিজেদের সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি স্পষ্ট বোঝা যায় বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যটকের কাছে এখন অন্যতম পর্যটন স্থান তুরস্ক।

তবে সমালোচকরা বলছেন নতুন এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাস বাজারে আসতে সময় নেবে। তুরস্কের জ্বালানী ক্ষেত্রে স্বাধীন সক্ষমতা অর্জন এখনো অনেক দূরে। এরপরেও এখন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন তুরস্কের ভাষায় ইতিহাসের এই বড় গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধানের পর আঙ্কারা দুটি বার্তা দিয়েছে; এক. তার মিত্রদের জন্য, যে তারা শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে।

তাদের ওপর ভরসা রাখা যায়। আরেকটি বার্তা শত্রুদের জন্যে সেটি হচ্ছে, তারা এতটাই শক্তিশালী যে, যত বড় আঘাত এবং সমস্যা আসুক না কেন সকল আঘাত ও সমস্যার সমাধানে তুরস্ক একাই যথেষ্ট।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই। ভাষান্তর: শাশ্বত সত্য

ইরানে মহররম মাসে প্রকাশ্যে শরীর রক্তাক্ত করে শোক-প্রকাশ করালেই শাস্তি

ইসলাম যে আবেগ বা শোক প্রকাশের নামে কোনো বাড়াবাড়িকে পছন্দ করে না তা অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির মহররম মাস এলেই এ সত্যটি হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবিধানের ইসলামী দণ্ড-বিধি অধ্যায়ের ৬১৮ ও ৬৩৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী পবিত্র মহররম ও আশুরার সময় কেউ প্রকাশ্যে বা জনসমক্ষে শরীর রক্তাক্ত করে শোক-প্রকাশ করেছে বলে প্রমাণিত হলে ওই ব্যক্তিকে দেশটির আদালত নগদ অর্থ জরিমানা, নির্বাসন, চাবুকের প্রহার এবং কারাদণ্ডও দিতে পারে শাস্তি হিসেবে।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী ইবাদতের জন্য পোশাক, শরীর ও স্থান পবিত্র হওয়া জরুরি। কিন্তু রক্ত অপবিত্র হওয়ায় এর স্পর্শে স্থান, দেহ ও পোশাক অপবিত্র হয়ে যায়। তাই ইবাদতের স্বার্থে মসজিদ ও ইমামবাড়ার মত পবিত্র স্থানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের রক্ত দিয়ে অপবিত্র করা নিষিদ্ধ বলে ইরানের আলেম সমাজ ফতোয়া দিয়ে এসেছেন।

যারা কারবালার শোকাবহ ঘ্টনার জন্য শোক প্রকাশ করতে চান তারা অপাত্রে রক্ত অপচয় না করে রোগীদের জন্য হাসপাতালে রক্ত দান করলে অনেক সাওয়াবের অধিকারী হবেন বলেও ইরানি আলেম সমাজ মনে করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর ফতোয়াতেও বলা হয়েছে যে, মহররম ও আশুরার শোক পালনের নামে শরীর রক্তাক্ত করা হারাম। এমনকি গোপনে এ কাজ করতেও নিষেধ করেছেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, এ ধরনের কাজ শোক-প্রকাশ নয় বরং শোক-প্রকাশের ধ্বংস সাধন। এ ছাড়া তিনি পোশাক খুলে বা খালি-গা হয়ে শোক প্রকাশ করারও বিরোধিতা করেছেন। বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে আশুরা ও মহররমের শোক প্রকাশের নামে অনেকেই নানা পন্থায় শরীরকে রক্তাক্ত করেন। আর এ বিষয়টি মহররমের পবিত্রতা ও শোক-প্রকাশকারীদের সম্পর্কে নানা নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে অনেকের মধ্যেই।

এ ধরনের তৎপরতার ফলে ইসলামের শত্রুরা এই মহান ধর্ম সম্পর্কে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর সুযোগ নিচ্ছে বলে ইরানের শীর্ষস্থানীয় অন্য অনেক আলেমও মনে করেন এবং তাই তারা শোক-প্রকাশের ক্ষেত্রে এসব বাড়াবাড়ি পরিহার করতে মুসলমানদের সতর্ক করে আসছেন। সুত্র: পার্সটুডে

মিয়ানমারে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের

রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী আবদুল রশিদের জন্ম মিয়ানমারেই। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের যে কয়েকজন সদস্য দেশটিতে টিকে আছেন, তিনি তাদের একজন।

তার বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। কিন্তু নভেম্বরের নির্বাচনে আবদুল রশিদ প্রার্থী হতে পারছেন না। তার পরিচয়ে বিদেশি ভিত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে।

আসছে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অন্তত এক ডজন রোহিঙ্গা মুসলিম প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছেন। শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের অধীন তারা রাজনীতি করার অধিকার পাবেন বলে প্রত্যাশা থেকেই প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু ইতিমধ্যে ছয় জনের আবেদনই প্রত্যাখ্যান করা হয়। অজুহাত হিসেবে তাদের জন্মের সময় বাবা-মা মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন বলে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জান্তা শাসন থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণে মিয়ানমারের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রোহিঙ্গা প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা সংস্কারের সীমাবদ্ধতার কথাই সামনে নিয়ে আসে।

ব্রিটেনে বার্মা রোহিঙ্গা সংস্থার প্রধন তুন খিন বলেন, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় পরিচয় আলাদাভাবে বিবেচনা না করে মিয়ানমারে সবাইকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

ইয়াঙ্গুনে নিজের বাসায় দিস্তায় দিস্তায় চিঠি ও পরিচয়পত্র উল্টে যাচ্ছেন আবদুল রশিদ। তিনি বলেন, সরকারের ইস্যু করা সব নথি আমার কাছে আছে। আমার বাবা-মা যে নাগরিক ছিলেন, তারা সেই সত্য স্বীকার করতে চাচ্ছে না। এটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনইয়াও অং শিন বলেন, আইন মেনেই প্রার্থীতা বাতিল করছে নির্বাচনী সংস্থাগুলো। হোক সে বাঙালি কিংবা অন্য কিছু, বিদেশি ও অনৃতাত্ত্বিক লোকজন নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না।

রাখাইন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান টিন হ্লেইং বলেন, এটা নিশ্চিত যে আবদুল রশিদের জন্মের সময় তার বাবা-মা মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন না।

আবদুল রশিদের কাছে তার বাবা-মায়ের যে কাগজপত্র আছে, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য তা যথেষ্ট বলে তিনি মনে করেন।

১৯৯০ সালে এসব পরিচয়পত্র উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। পরিবর্তে রোহিঙ্গাদের একটি সাদা পরিচয়পত্র ধরিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে সেটিও অকার্যকর ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট থেইন সেন।

সুচিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা ওই নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ভোটাধিকার ও প্রার্থিতা কেড়ে নেয়ার পরেও দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাওয়া সুচির ওপর আস্থা রাখতে চাচ্ছেন বহু রোহিঙ্গা।

ডেমোক্রেসি ও হিউম্যান রাইটস পার্টির(ডিএইচআরপি) মহাসচিব কেইয়াও সো অং বলেন, আমরা আগের পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। আগের সরকারগুলো সামরিক ছিল, তারা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করত না।

তিনি জানান, কিন্তু সুচিকে বোঝা বেশ কঠিন। তিন ও তার গণতান্ত্রিক সরকারও কেন জান্তা সরকারের মতো আচরণ করছেন, তা বুঝতে পারছি না।

১৯৯০ সালের নির্বাচনে একটি আসনে জয়ী হওয়া ডিএইচআরপি দলের চেয়ারম্যান কেউ মিনের(৭২) প্রার্থিতাও চলতি সপ্তাহে বাতিল ঘোষণা হয়েছে। যদিও অন্যান্য গণতান্ত্রিক নেতাদের সঙ্গে তাকে বহুদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে।

আবু তাহিয়া নামের এক রোহিঙ্গাকে প্রার্থী হতে বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের সুযোগ নষ্ট করে দেয়া। তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

0 Shares