যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী নিনা আহমেদ!

353 Shares

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে বিপুল ভোটে অডিটর জেনারেল পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিনা আহমেদ। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজ্য পর্যায়ের একটি সম্মানজনক পদে নির্বাচিত হলেন।

এ ছাড়া পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো অশ্বেতাঙ্গ এবং নারী অডিটর জেনারেল পদে নির্বাচিত হলেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম পিটার্সবার্গ ট্রিবিউনের খবরে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার ঘোষিত ওই ফলাফল অনুযায়ী,

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল ল্যাম্বর থেকে ৮০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন নিনা আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৩৪ শতাংশ ভোট, ল্যাম্ব পেয়েছেন ২৮ শতাংশ ও বাকি প্রার্থীরা মিলে পেয়েছেন ১৫ শতাংশের কম ভোট।

জয়ের পর এক বিবৃতিতে নিনা আহমেদ বলেন, ‘আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং ভোটাররা নতুন মুখ এবং একটি নতুন কণ্ঠ নির্বাচন করে আড়োলন সৃষ্টিকারী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।’

বিজ্ঞানী নিনা আহমেদ একজন নারীবাদী ও প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে তিনি একজন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। নিনা আহমেদ প্রার্থিতা ঘোষণা করে বলেছিলেন,

অডিটর জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি সরকারি অফিসে যৌন হয়রানি বন্ধের বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ব্যয় কমানোর চেষ্টা করবেন এবং অডিটর জেনারেলের অফিসের ক্ষমতা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ডেটা ও রিসোর্স সরবরাহ করে এনআরএর সাথে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র সুরক্ষা আইন পাস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

এর আগে নিনা আহমেদ ফিলাডেলফিয়া নগরে মেয়র জিম কেনির অধীনে পাবলিক এনগেজমেন্টের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নারী কমিশন, ব্ল্যাকমেল এনগেজমেন্ট অফিস ও যুব কমিশনের তদারকি করেছেন এবং এলজিবিটিবিষয়ক কার্যালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

তিনি এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জবাসীর বিষয়ে বারাক ওবামার উপদেষ্টা কমিশন এবং এশিয়ান আমেরিকানবিষয়ক মেয়র নাটারের কমিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে, জানা যায়, নিনা ও তার স্বামী আহসান ৩০ বছরের বেশি সময় ফিলাডেলফিয়ায় বসবাস করছেন। তারা দুই কন্যা জোয়া ও প্রিয়াকে তাদের কমিউনিটির মূল্যবোধ শিখিয়েছেন।

নিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দেশে বেড়ে ওঠেন এবং ২১ বছর বয়সে আমেরিকায় আসেন। তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরে আণবিক জীববিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য অর্জন করেন।

353 Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.