মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আবারো ‘ব্যঙ্গাত্মক’ কার্টুন চার্লি হেবদো’র

0 Shares

বিতর্কিত ফরাসি ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন চার্লি হেবদো হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ২০১৫ সালে যে কার্টুনগুলো প্রকাশ করেছিল সেগুলো পুনরায় প্রকাশ করেছে তারা। এমন সময় কার্টুনগুলো প্রকাশ করল, যখন ওই ফরাসি ম্যাগাজিনের অফিসে হামলায় জড়িত ১৪ জনকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তুতি চলছে। এর একদিন আগেই এ ঘটনা ঘটল।

বিবিসি জানায়, ম্যাগাজিন চার্লি হেবদো’র সবশেষ সংস্করণের প্রচ্ছদে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ১২টি কার্টুন রয়েছে। তবে এই ব্যঙ্গাত্মক ছবিগুলো চার্লি হেবদো-তে পুনরায় পাবলিশ করার আগে ড্যানিশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কার্টুনগুলোর মধ্যে একটিতে নবীকে পাগড়ির পরিবর্তে বোমা পরানো হয়েছে বলে খবরে জানানো হয়েছে।

ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশের জেরে যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে এজন্য প্রায় সময় নবীকে ছদ্মনামে ছড়িয়ে দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ওই সম্পাদকীয়তেই বলা হয় ‘এই জঘন্য কাজটি করতে আমরা সবসময় অস্বীকার করেছি, কারণ এটি নিষিদ্ধ।

যদিও আইন আমাদের তা করার অনুমতি দেয় – তবে এ ধরনের কাজ করার জন্য একটি ভালো কারণেরও প্রয়োজন। এই সপ্তাহে কার্টুনগুলো পুনরায় সম্পাদন করল যখন ২০১৫ সালের জানুয়ারির সন্ত্রাসী হামলার বিচার আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

২০০৬ সালেও এই ম্যাগাজিনটি ড্যানিশ পত্রিকায় প্রকাশিত নবী মুহাম্মদকে নিয়ে আঁকা কার্টুন পুনর্মুদ্রণ করেছিল, এবং তখন থেকেই তারা সবার নজরে আসে। ফ্রান্সের বর্ণবাদ-বিরোধী আইনে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা হওয়া স্বত্বেও তারা বিতর্কিত কার্টুন প্রকাশ চালু রাখে। তখন থেকেই সাময়িকীটির সম্পাদক পুলিশ প্রহরায় থাকেন।

২০১৫ সালে নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রচারের পর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চার্লি হেবদো’র সাময়িকীর অফিসে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। কার্টুন প্রচারের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিক্ষোভ করেন।

আমিরাত চিরদিন লাঞ্ছিত, অপমানিত হবে: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের চুক্তি করে আমিরাত মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মঙ্গলবার এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘অবশ্যই আমিরাতের বিশ্বাসঘাতকতা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তবে তাদের কলঙ্কজনক আচরণ সারা জীবন মনে রাখবে মানুষ। তারা ইহুদিবাদীদের এ অঞ্চলে প্রবেশ করতে দিয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের ভুলে গিয়েছিল।’ বলেন খামেনি।

খামেনি বলেন, আমিরাত চিরদিন লাঞ্ছিত, অপমাণিত হবে। অবশ্যই বিশ্বাসঘাতকতার মূল তাদের দিতে হবে।

তেহরানের দীর্ঘদিনের শত্রু ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করায় আমিরাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। মধ্যেপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল আরেকটি যুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ইসরাইলের কর্মকর্তারা।

আমিরাত-ইসরাইল চুক্তি থেকে উভয়পক্ষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে প্রত্যাশা করছে। প্রথম কোনো আরব দেশের সঙ্গে তেল আবিবের প্রথম চুক্তি এটি। ইরানের ভয় আমিরাত ও ইসরাইলকে এক করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের এ চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন। আমিরাতের চুক্তি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্তরায় বলে মনে করেন ফিলিস্তিনিরা।

0 Shares