ডাক্তার নেই, অপারেশন করেন মালিকের মাদ্রাসা পাশ ছোট ভাই!

226 Shares

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শ্যামলীতে সেবিকা জেনারেল হাসপাতালকে ৬ লাখ টাকা জরি’মানা ও মো. সাইফুল ইসলামকে (৫২) ১ বছরের বিনাশ্রম জেল ও অ’নাদায়ে আরও ১ মাসের জেল দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব-২ জানায়, দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে এনে প্রথমে কম টাকায় ভর্তি করতে চাইলেও পরে বেশি টাকা নেওয়ায় রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রোগীর স্বজনদের আরও অভিযোগ, দালালেরা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা পাবে না বলে ফুসলিয়ে তাদের সেবিকা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর হাসপাতালের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেনের ছোট ভাই মো. সাইফুল, যে আদতে কোনো চিকিৎসকই না, সে অপারেশন করেছে।

র‌্যাবের অভিযান চলাককালীন সময় তাকে অপারেশন করা অবস্থায় হাতে-নাতে আটক করে। হাসপাতালের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বিভিন্ন অভিযোগে ৪ লাখ টাকা জরি’মানা, তার ছোট ভাই মহিবুল্লাহ হেলালকে ২ লাখ টাকা জরি’মানা এবং আরেক ছোট ভাই- যে সনদধারী চিকিৎসক নয়, অনুমোদনহীনভাবে রোগীর অপারেশন করায় সেই মাদ্রাসা পাশ ভাই মো. সাইফুল ইসলামকে ১ বছর বিনাশ্রম জেলসহ অ’নাদায়ে আরও ১ মাসের জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এই অভিযানটি র‌্যাব-২ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার এসপি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, র‌্যাবের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কমিশনের বিনিময়ে দালাল রাখে এই ক্লিনিক মালিক। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার নামে বিভ্রা’ন্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সহজ সরল রোগীদের ভ’য় দেখিয়ে সেখান থেকে ভাগিয়ে এখানে নিয়ে আসে দালালরা। এখানে আনার পর চিকিৎসক ছাড়াই তাদের অপারেশনসহ নানা ব্যবস্থাপত্র দিত। এভাবেই প্র’তারণার মাধ্যমে সহজ সরল রোগীদের কাছ হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ।

পলাশ বসু আরও বলেন, মাদ্রাসা পাশ করা সাইফুলকে দিয়ে অপারেশন করানোয় মালিক সাখাওয়াত হোসেনকে ৪ লাখ, মো. মহিবুল্লাহ হেলালকে ২ লাখ টাকা জরি’মানা করা হয়। সনদ ছাড়াই অপারেশন করায় সাইফুল ইসলামকে ১ বছরের জেলসহ অ’নাদায়ে আরও ১ মাসের জেল দেয়া হয়েছে।

226 Shares