ভারত-চীন যু্দ্ধে হলে কার পক্ষ নিবে বাংলাদেশ?

0 Shares

নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ভারত-চীনের মধ্যে। লাদাখ সীমান্তে কর্নেলসহ ২৩ ভারতীয় সেনাকে হত্যা করেছে চীন। এই পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী এই দুই দেশের মধ্যে যদি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় তবে বাংলাদেশ কার পক্ষ নিবে। বিশ্ব পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোই বা কে-কার পক্ষ নিবে? যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা অন্য ক্ষমতাধর দেশগুলোর ভূমিকা কেমন হবে? বাংলাদেশ কোন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে?

শেষ পর্যন্ত দেশ দুটি যুদ্ধে জড়ালে অন্য দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহমুদ আলি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যেমন- জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল এবং ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে এসব দেশের সামরিক সহযোগিতা বেশ ঘনিষ্ঠ। কাজেই এসব দেশ হয়তো রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিকভাবে ভারতকে সমর্থন দেবে।

অন্যদিকে চীনের সেরকম আন্তর্জাতিক মিত্র নেই। রাশিয়া চীনের বন্ধুরাষ্ট্র, কিন্তু মনে রাখতে হবে অতীতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতেরও ঘনিষ্ঠ মৈত্রী ছিল। ১৯৬২ সালে রাশিয়া কিন্তু চীনের বদলে ভারতকেই সমর্থন করেছিল। কাজেই প্রত্যেকটি দেশ হয়তো এখানে তার নিজের স্বার্থটাকে আগে দেখবে।

যু্দ্ধে হলে আরেক পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান যে চীনের পক্ষ নিয়ে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে জটিল অবস্থায় পড়তে পারে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মতো দেশের সঙ্গে চীন এবং ভারত উভয় দেশেরই সুসম্পর্ক আছে। দুই দেশের মধ্যে যদি যুদ্ধ হয়, তখন সরাসরি কোনো পক্ষ নেওয়ার জন্য কি চাপ বাড়বে বাংলাদেশের ওপর?

মাহমুদ আলি বলেন, এ ধরনের একটা চাপ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের ওপর আছে। যেমন- ২০১০ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চীনের সাহায্যে তারা চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবেন। এই প্রস্তাব যখন বাংলাদেশ চীনের কাছে দেয়, তখন চীন সেটি গ্রহণ করেছিল। এই বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র,ভারত এবং জাপানের চাপের মুখে বাংলাদেশকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিতে হয়। পরে বাংলাদেশ জাপানের সাহায্য নিয়ে চট্টগ্রামে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে।

এই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের চাপ কিন্তু বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরেই অনুভব করছে। এটার মোকাবেলায় বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে তাদের সাধ্যমত কাজ করে চলেছে। তবে যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি যে বেশ জটিল হয়ে পড়বে, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক সমরাস্ত্র চীন থেকে এসেছে। বাংলাদেশি সেনা অফিসাররা চীন থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কিন্তু সেটা রাজনৈতিক সম্পর্ক, সামরিক নয়। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশ সে পরিমাণ সমরাস্ত্র কেনেনি। কাজেই এটা একটা জটিল সম্পর্ক। অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি- সব দিক দিয়ে।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যাদের চীন এবং ভারত দু’দেশের সঙ্গেই এরকম সম্পর্ক, তাদের জন্য বেশ জটিল একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সন্দেহ নেই।

0 Shares