ভারতে পাঠ্যবই থেকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ অধ্যায় বাতিল

0 Shares

কাগজে-কলমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। কিন্তু এবার ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দেশটির জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যক্রমে ছুরি চালিয়ে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার পথে হাঁটছে।

এরই অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভারতে খাদ্য সুরক্ষা, ফেডারেলিজম, নাগরিকত্ব এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার মতো মূল অধ্যায়গুলো ভারতের জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

এমনকি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ‘ভারতের সম্পর্ক: পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার’ নামে অধ্যায়টিও ভারতের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক পাঠ্যসূচি থেকে ছাঁটাই করা হলো।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই) এমন ঘোষণা দিয়েছে।

এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে সিবিএসই বলছে, করোনা ভাইরাসে গোটা বিশ্ব লড়ছে। এই ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতির’ কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস করা হভে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়টি দুটি সংশোধন করা হচ্ছে।

এছাড়া একাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে ফেডারেলিজম, নাগরিকত্ব, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার মতো মূল অধ্যায়গুলো। একইসঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রম থেকে ‘সমসাময়িক বিশ্ব সুরক্ষা’, ‘পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ’, ‘ভারতে সামাজিক এবং নতুন সামাজিক আন্দোলন’ ও ‘আঞ্চলিক সম্ভাবনা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

নবম শ্রেণির পাঠ্যকম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ভারতীয় সংবিধানের গণতান্ত্রিক অধিকার ও কাঠামো সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো। অর্থনীতির পাঠ্যক্রম থেকে আগাগোড়া ছাঁটাই করা হয়েছে ভারতের খাদ্য সুরক্ষাবিষয়ক একটি অধ্যায়।

পাশাপাশি দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে গণতন্ত্র ও বৈচিত্র্য, বর্ণ-ধর্ম ও লিঙ্গ এবং গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কিত অধ্যায়গুলোকে সরানো হয়েছে।

সিবিএসই বলছে, বৈশ্বিক এই করোনা মহামারিতে মূলত শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে চাপ কমাতেই পাঠ্যক্রম ছোট করা হচ্ছে।

তবে পাঠ্যক্রমে হঠাৎ করেই এত রদবদল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের পথে বাধা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এবং সচেতন মহল।

0 Shares