পরপর কাশ্মির, লাদাখ, সিকিম, নেপাল সীমান্তে গোলমাল, ভারতকে কি ঘিরে ফেলতে চাইছে চীন!

1K Shares

যু’দ্ধের মূল কথাই হল শ’ত্রুকে ধোঁ’কা দেওয়া। শ’ত্রু যখন অপ্র’স্তুত, তখনই তাকে আ’ক্র’মণ কর। চু’পিসাড়ে এসে শ’ত্রুর ওপরে ঝাঁ’পিয়ে পড় ব’জ্রের মতো…।

যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর আগে এই কথাগুলি বলে গিয়েছেন এক চীনা

সমরবিদ। তার নাম সুনৎসু। তিনি যু’দ্ধশা’স্ত্রের ওপরে একটি বই লিখেছিলেন। তার নাম

”আর্ট অব ওয়ার”। চীনারা এখনও সুনৎসুকে মানে। শ’ত্রু দেশের বি’রু’দ্ধে তার কৌশল প্রয়োগ করে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে এ ব্যা’পারে স’ন্দে’হ থাকে না।

১৯৬২ সালে চীন যু’দ্ধের কয়েক বছর আগে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এমন ভাব দেখাতেন যেন জওহরলাল নেহরু তাঁর বড় ভাই। বান্দুং সম্মেলনে তিনি নেহরুর

হাত ধ’রে ঘুরছিলেন। এমনকি যু’দ্ধের কয়েকমাস আগেও তিনি শান্তির বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন দিল্লিতে। নেহরু ভাবছিলেন, সিয়াচেন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে

ছোটখাটো বিরো’ধ আছে বটে, কিন্তু চীন নি’শ্চ’য় পুরোদস্তুর যু’দ্ধের পথে যাবে না। ভারত যখন অপ্রস্তুত, তখনই সীমান্তে আচ’মকা উদয় হয়েছিল লাল ফৌজ।

একেবারে সুনৎসুর নীতি মেনে যু’দ্ধের ছক সাজিয়েছিলেন চীনা রাষ্ট্রনায়করা। শ’ত্রু যখন অপ্রস্তুত, তখন তার ওপরে ব’জ্রের মতো ঝাঁ’পিয়ে পড়ে। তার প্রায় ৬০ বছর বাদে

চিনারা কি একই ইতিহাসের পুনরা’বৃত্তি করতে চায়? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইতিপূর্বে কয়েকবার বৈঠক করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং। ইনফরমাল

মিটিং। মানে সরকারি আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দুই নেতার অ’ন্তর’ঙ্গ আলোচনা। কিন্তু চিনের রাষ্ট্রপ্রধান মুখে যতই অ’ন্তর’ঙ্গতা দেখান,

সীমান্তে দিন দিন বাড়ছে তাদের সেনা মোতায়েন। অনেক উঁচু পাহাড়চূড়ায় যু’দ্ধ চালানোর উপযোগী অ’স্ত্রশ’স্ত্রও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালে ডোকলামে দুই দেশের

যু’দ্ধ লাগব লাগব হয়েছিল। ভারত বরাবর মাথা ঠান্ডা রেখেছে। তাই সং’ঘ’র্ষ বড় আকার নেয়নি। কিন্তু চিনের নীতি হল নিয়মিত উ’স্কা’নি দিয়ে যাওয়া। শ’ত্রুকে খুঁ’চিয়ে

ব্যতি’ব্যস্ত করা। মঙ্গলবার চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র খুব গম্ভীর মুখে বলেছেন,

সোমবার গভীর রাতে ভারতের সেনা দু’বার বর্ডার পেরিয়ে আমাদের এলাকায় ঢুঁকে পড়েছিল। আমাদের সেনা তাদের দূর করে দিয়েছে। একে বলে চোরের মায়ের বড় গলা।

নিজে দো’ষ করে জোর গলায় অস্বী’কার করা। উল্টে অন্যের ওপরেই দো’ষ চা’পিয়ে দেওয়া। লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান নদী ও প্যাংগং সো হ্রদ অঞ্চলে উত্তে’জনা রয়েছে

প্রায় দেড়মাস ধরে। প্যাংগং লেকের ধা’রে দুই দেশের টহলদার সেনার মধ্যে সং’ঘ’র্ষ বাধার উপ’ক্রম হয়েছে একাধিকবার। গত সপ্তাহে দুই দেশের সেনাকর্তারা আলোচনায়

বসেছিলেন। চিন ভাব দেখায় যেন কতই না খুশি হয়েছে। বেজিং থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়,

বৈঠকে আমরা ”ইতিবাচক ঐকমত্যে” আসতে পেরেছি। ভারতীয় সেনা ভাবছিল, চিনারা এবার সং’য’ত হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। মঙ্গলবার ভারতীয় সেনা বিবৃতি

‘দিয়ে বলেছে, লাদাখ সীমান্তে ”ডি-এস’ক্যালে’শন প্রসেস” চলছিল। অর্থাৎ উত্তে’জনা কমানোর চেষ্টা হচ্ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে চিনের সঙ্গে আমাদের সং’ঘ’র্ষ বাধে।

‘দু’পক্ষই লাঠি, রড ও পাথর নিয়ে পরস্পরের ওপরে ঝাঁ’পিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাতের খবর, এই সং’ঘর্ষে নিহ’ত হয়েছেন অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা। চিনাদের তরফেও

বেশ কয়েকজন হ’তাহ’ত হয়েছে। ভারত যতই উত্তে’জনা কমাতে চাক, চিনারা চায় না।

দু’পক্ষের সদিচ্ছা না থাকলে কোনও ঝ’গড়াই মেটে না। সুতরাং লাদাখ সীমান্তে শান্তি আপাতত দূরঅ’স্ত। পাকিস্তান সীমান্তেও গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার অশা’ন্তি

হয়েছে। পাকিস্তানিরা বরাবর সীমান্তে গো’লাগু’লি চালায়। ভারতীয় সেনা পা’ল্টা জবা’ব দিলে চুপ করে যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অতিম’হামা’রী। সব

দেশই ল’ড়ছে করোনার বি’রু’দ্ধে। কিন্তু পাকিস্তান এর মধ্যেই ভারতের বি’রু’দ্ধে শা’নিয়ে চলেছে অ’স্ত্র। সীমান্তে আগের মতোই হা’ঙ্গা’মা বা’ধিয়ে চলেছে। গত ১৩ জুন রাতে পুঞ্চ

জেলার শাহপুর-কারনি সেক্টরে পাকিস্তানের সেনা আচ’মকা গো’লা দা’গতে শুরু করে।

তাতে ভারতের এক সেনা জওয়ান নিহ’ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে কাশ্মীরে চারবার জ’ঙ্গিদের সঙ্গে নিরা’পত্তা বাহিনীর সং’ঘ’র্ষ হয়েছে। সন্ত্রা’সবাদীরা পাকিস্তানে ট্রেনিং

নেয়। সেখান থেকে অ’স্ত্রশ’স্ত্র পায়। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ফের ”কাশ্মীরের স্বশা’সন”, ”মানবাধিকার ল’ঙ্ঘ’ন” ইত্যাদি নিয়ে সরব হয়েছেন

পাকিস্তানের দূত। ভারত জবাবে বলেছে, যারা বালুচিস্তানে ধারাবাহিক গণহ’ত্যা চালায়, তাদের মুখে মানবাধিকারের বড় বড় কথাগুলো শো’ভা পায় না।

সবচেয়ে খা’রা’প ব্যাপারটা ঘটেছে গত সোমবার। এদিন সকাল সাড়ে আটটা-ন’টা নাগাদ ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের দুই গাড়িচালকের ওপরে দু’ষ্কৃ’তীরা চড়াও হয়। তারা

যখন পেট্রল পাম্প থেকে তেল নিচ্ছিলেন, তাদের ঘিরে ফেলে ১০-১২ জন। দু’জনের চোখে কাপড় বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় কোনও অজ্ঞা’ত স্থানে। সেখানে তাদের লা’ঠি, র’ড

দিয়ে মা’রধ’র করা হয়। ভিডিও ক্যামেরার সামনে তাদের দিয়ে জো’র করে বলানো হয়, আমরা ভারতীয় গু’প্তচ’রদের হয়ে কাজ করছিলাম।

পাকিস্তান আর চিন বরাবর ভারতের সঙ্গে শ’ত্রু’তা করে এসেছে। কিছুদিন আগে তাদের সঙ্গ দিয়েছে নেপাল। যে দেশটার অর্থনীতি ভারতের সাহায্যের ওপরে নির্ভরশীল,

তারা হঠাৎ উত্তরাখণ্ডের খানিকটা জায়গা নিজেদের বলে দাবি করে বসেছে! রাতারাতি নতুন করে এঁকে ফেলেছে নেপালের ম্যাপ। তাতে ভারত সীমান্তে কালী নদীর

পশ্চিমদিকে একটা সরু ফিতের মতো এলাকা বেমালুম নেপালের অন্তর্ভুক্ত বলে চালিয়ে দিয়েছে। নেপালের সব দলেরই দাবি, তাদের ওই অঞ্চলটা ভারত অন্যা’য়ভাবে দ’খল

করে রেখেছে। ওটা এখনই ফেরত চাই। একরত্তি একটা দেশ ভারতের সঙ্গে ঝামে’লা পাকাতে সা’হস পায় কী করে?

চিনের ম’দত না থাকলে এত সা’হস হয়? মনে হচ্ছে, চিনারা নেপাল সীমান্তে ভারতের সঙ্গে অশান্তির আরও একটা ফ্রন্ট খুলতে চায়। পাকিস্তানের পিছনেও চিনারা আছে।

সেই ১৯৭১ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে গলায় গলায় বন্ধুত্ব। চিনাদের ম’দ’ত না পেলে এই অতিমহামা’রীর সময় সীমান্তে গো’লাগু’লি ছোড়া বা জ’ঙ্গিদের সাহায্য করার

ক্ষ’মতাই ইমরান খানের হত না। অত অর্থ তার নেই। মাঝে মাঝে তাকে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির কাছে ভিক্ষা চাইতে হয়। কোভিড ১৯ অতিমহামা’রী ঠেকাতে বিশ্বের সব

দেশই ব্যতিব্যস্ত। ভারতও ব্যতি’ক্রম নয়। চিনারা এই সুযোগে তিন দিক থেকে ভারতকে ঘিরে ফেলতে চায়। অর্থাৎ তাদের ইচ্ছা আরও বড় আকারে ৬২ সালের পুনরাবৃত্তি

ঘটানো। সেবার তাদের সঙ্গে পাকিস্তান বা নেপাল ছিল না।

এবার চিনারা ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশকে নিয়ে শ’ত্রু’তা করার চেষ্টায় আছে। এখনও পর্যন্ত ভারত আছে আলোচনার পথেই। কিন্তু একটা কথা মনে রাখা দরকার। ভদ্রলোকের

সঙ্গেই আলোচনা চলতে পারে, দু’র্বৃ’ত্তের সঙ্গে নয়। যার উদ্দেশ্য খা’রাপ, তাকে মিষ্টি কথায় বুঝিয়ে লাভ নেই। তাকে গায়ের জো’র দেখাতে হয়। চিনারা ভাবছে, ভারত বুঝি

এখনও ৬২ সালের পর্যায়েই পড়ে আছে। তাদের সমঝে দেওয়া চাই, পরি’স্থিতি আর আগের মতো নেই। একুশ শতকের ভারত অনেকগুণ বেশি শক্তি ধ’রে। চিনারা যদি এই

কথাটা বুঝতে পারে, তাহলে হয়তো আর সীমান্তে গোলমাল পাকাতে সা’হস পাবে না। ঝামে’লা পাকাবার জন্য কাউকে মদতও দেবে না। সূত্র : দ্য ওয়াল

1K Shares