বাবা দিবসে কুমিল্লায় ডাস্টবিনের পাশেই অসুস্থ বাবাকে ফেলে গেলেন সন্তানরা

0 Shares

ছোটবেলা থেকে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের কোলে পিঠে মানুষ করেন বাবা। সন্তান বড় হলেও বটগাছের মতো ছায়া দেন জন্মদাতারা। কিন্তু সেই জন্মদাতার সঙ্গে নির্মম আচরণ। আজ বাবা দিবসে কুমিল্লায় সন্তানদের ফেলে যাওয়া হতভাগ্য এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সেই বাবাকে বেওয়ারিশ হিসেবেই দাফন করেছে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।

রবিবার (২১ জুন) বিকালে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া ওই বাবার নাম খোরশেদ মিয়া (৬০)। তবে মৃত্যুর আগে পুলিশকে নিজের নাম বললেও ঠিকানা জানিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এদিন বিকালে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অনুরোধে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বৃদ্ধ খোরশেদ আলমের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছেন তারা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার (২০ জুন) রাতে কুমিল্লা নগরীর বাদুড়তলা এলাকায় ফয়জুন্নেচ্ছা স্কুলের বিপরীতে একটি ডাস্টবিনের পাশেই এক বৃদ্ধ মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল। সন্তানরা অসুস্থ বৃদ্ধ খোরশেদ মিয়াকে এখানে ফেলে চলে যায় । পরে জরুরি জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন আসে পুলিশের কাছে। এরপর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ সদস্যরা। তারা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ভর্তি করার পরে ওইদিন রাতেই মারা যান হতভাগ্য খোরশেদ মিয়া।

কুমিল্লা কোতোয়ালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক খন্দকার শাহাব উদ্দিন জানান, শনিবার রাতে খবর পাই একজন অসুস্থ মানুষ ফয়জুন্নেচ্ছা স্কুলের বিপরীতে একটি ডাস্টবিনের পাশে পড়ে রয়েছে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের দেখেই বৃদ্ধ খোরশেদ মিয়া বলে উঠেন- বাবা আমাকে বাঁচাও। লোকটির শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। খুবই অসুস্থ ঠিক মতে কথাও বলতে পারছিলেন না। পরে আমরা ওই বৃদ্ধকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

খন্দকার শাহাব উদ্দিন আরও জানান, আমরা পথে বৃদ্ধ খোরশেদ মিয়াকে বললাম চাচা আপনি ডাস্টবিনের পাশে কেন? পরে বুকভরা কষ্ট নিয়ে বললেন- সন্তানরা তাকে ডাস্টবিনের পাশে ফেলে গেছেন। কথাটি শোনার পর আমাদের চোখে পানি চলে আসে। এর বেশি তিনি কিছুই বলতে পারেননি আমাদের। তবে অস্পস্ট স্বরে জানালেন তার বাড়ি নোয়াখালীর-লক্ষ্মীপুর এলাকায়। আমরা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পৌঁছে অসুস্থ বৃদ্ধ খোরশেদ মিয়াকে ভর্তি করি। ঠিকানার জায়গায় আমার নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে আসি। পরে হাসপাতাল থেকে আবারও ডিউটির উদ্দেশ্য রওনা হই। এর কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতাল থেকে একজন নার্স ফোন করে বলেন বৃদ্ধ খোরশেদ মিয়া মারা গেছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক জানান, ওই বৃদ্ধ তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর এলাকায় বললেও বিস্তারিত পরিচয় বলতে পারেননি। আর আমরা তার সঠিক ঠিকানা খুঁজে পাইনি। যার কারণে বিস্তারিত পরিচয় না পাওয়ায় তার মরদেহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে

0 Shares