বাইরে ঠিকঠাক, তালা খুলে দেখা গেল অর্ধ কোটি টাকার পণ্য উধাও!

519 Shares

কনটেইনারের বাইরে সব ঠিকঠাক। তালাও লাগানো আছে দৃঢ়ভাবে। পাঁচটি কনটেইনারের ভেতরে আছে আমদানি করে আনা ১ লাখ ৬ হাজার কেজি ওজনের জিপি শিট। সব কাজ শেষ করে যখন মালামালগুলো খালাসের সময় এল, কনটেইনার খুলে দেখা গেল ভেতরে কিছুই নেই। পাঁচ পাঁচটি কনটেইনারেই একই অবস্থা। এমন ‘অদ্ভূত’ ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আর তাতে সংশ্লিষ্টরাই রীতিমতো অবাক— তালাবদ্ধ পাঁচ কনটেইনারের এতোগুলো মালামাল গেল কোথায় তাহলে?

অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচ কনটেইনার জিপি শিট এভাবে অদ্ভূত কায়দায় গায়েব হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। দেখা গেছে, কনটেইনারের বাইরে সব ঠিকঠাক থাকলেও ভেতরে যেসব পণ্য থাকার কথা তার কিছুই নেই। ওই জিপি শিট চীন থেকে আমদানি করে ঢাকার বংশাল রোডের কামাল স্টিল হাউস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস থেকে এই পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউনিকো ইন্টারন্যাশনাল।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনারে ঘোষিত জিপি শিটের ওজন ছিল এক লাখ ৬ হাজার ১৮০ কেজি। যার বিপরীতে কাস্টমসের শুল্ক নির্ধারণ করা হয় ৪২ লাখ ২২ হাজার ৩৮০ টাকা। এই টাকা সোনালী ব্যাংকের কাস্টমস হাউস শাখায় জমা দেয় আমদানিকারকের পক্ষে সিএন্ডএফ এজেন্ট। কিন্তু কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া শেষ করে যখন পাঁচ কনটেইনার মালামাল খালাস করতে যায় সিএন্ডএফ এজেন্ট, তখনই বাধে বিপত্তি। দেখা গেল, কনটেইনারে যে পণ্য থাকার কথা তা নেই। সিএআইইউ ৩৩২৯২২৩, ডিএফএসইউ ১৩৪৯০৪৮, ডিএফএসইউ ২৬৫৫০৫২, আইএএইউ ২৬৯১৯৩০, আইএএইউ ২৭২০৩৪৪— ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই পাঁচটি কনটেইনার থেকে সব পণ্যই উধাও। ভেতরে আছে শুধু দুই-তিন প্যাকেট টাইলস। এ ঘটনায় বন্দর-কাস্টমসের সংশ্লিষ্টরাও রীতিমতো অবাক!

কাস্টমসের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই পাঁচ কনটেইনার বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। তাহলে পাঁচ কনটেইনার মালামাল গেল কোথায়?’ তবে তিনি ‘সঠিক তদন্তসাপেক্ষে’ রহস্য বের করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে ‘এমভি মেরিন তারাবা’ নামের একটি জাহাজে গত ৯ মে কনটেইনারের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। হংকংয়ের কমপ্লাইন স্টিল কোম্পানি থেকে আসা চালানটি খালাস করতে আমদানিকারকের পক্ষে কাস্টমস হাউসে গত ৯ মে বিল অফ এন্ট্রি (সি ৭৫১৫১০) দাখিল করে চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোডের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ইউনিকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

বিল অব এন্ট্রির বিবরণী থেকে জানা যায়, রঙিন জিপি শিট ও সাধারণ জিপি শিট— এ দুই ক্যাটাগরির পণ্যের জন্য ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক থেকে ৫৯ হাজার ৪৯১ ডলার এলসি (নং ১৬১৪২০০১০০৪৭) করেন আমদানিকারক।

চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোডের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ইউনিকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা বন্দর কাস্টমসের সমস্ত ফি পরিশোধ করে কনটেইনার খালাসের সময় প্রথম একটি কনটেইনার খুলে দেখতে পাই সেখানে পণ্য নেই। তখন অন্য কনটেইনারগুলো না খুলেই বন্দর ও কাস্টমসের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানাই। তারা এসে সব কনটেইনারই খুলে দেখে মালামাল যা থাকার কথা তা নেই। এ ঘটনা সাথে সাথে আমদানিকারককেও জানিয়েছি। এমন ঘটনায় আমরা সবাই বিস্মিত।’

চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ইমরুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কাস্টমসে শুল্কায়নের সব প্রক্রিয়া শেষ করে খালাসের সময় ধরা পড়ে এমন ঘটনা। ঘটনাটি আমদানিকারকের কারসাজি কিনা সেটিও তদন্ত করা হবে। তবে আমদানিকারক কাস্টমসের সব শুল্ক পরিশোধ করেছেন— সেটি তাদের জন্য পজিটিভ দিক।’

মে মাসের প্রথম সপ্তাহেও এক কনটেইনার গার্মেন্টস পণ্য গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে। এ ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

519 Shares