‘বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে পারে না যারা, তারা পাকিস্থানি বীজ’

0 Shares

বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করতে হয়। যদি লোক দেখানো শোক দিবস পালন করা হয় তখন এমন কিছু ঘটবেই বলে মন্তব্য করেন বীর মুক্তিযো’দ্ধা ও প্রখ্যাত অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিবছর পালন করে। দিনটি স্মরণ করতে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠনের ব্যানারে এফডিসিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন- প্রযোজক সমিতির নেতা ও সদস্যরা এবং এফডিসির ১৮ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু শোক দিবসে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য যে মঞ্চ তৈরী হয় সেখানে শিল্পীদের হাসি ঠাট্টা করতে দেখা গেছে। সেই মুহুর্তগুলোর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। যা নিয়ে তীব্র ক্ষো’ভ প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ। এমনকি অনেক তারকাকে শোক দিবসে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। যার প্রেক্ষিতে রাইসুল ইসলাম আসাদ প্রথমে বলেন, আমি ওই অনুষ্ঠানে ছিলাম না। তাই এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সমীচিন হবে না। আর আমি যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাক্টিভ না তাই সেভাবেও ছবিগুলো দেখতে পাইনি।

তাকে ছবিগুলোর ধারণা দিলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করতে হয়। যদি লোক দেখানো হয়, তাহলে এমন কিছু ঘটবেই। তখন এসব ঘটবে। কে করলো সেটা বড় বিষয় না। এটা যে তারকারাই শুধু করেছে এমন নয়। কত নেতার কত প্রোগ্রামে এমনটা দেখা যায়। আমার কথা হলো এই যে শোক দিবস পালন করে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলে, তারা তাঁকে কতটা জানে?

তিনি যোগ করেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে হলে তাঁকে জানতে হবে। তাঁর লেখা বইগুলো পড়তে হবে। তাঁর কর্ম সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু এক কথায় যদি বলে দিই, তিনি দেশ স্বাধীন করেছেন, অমনি কি হয়ে যায়? দেশের জন্য কীভাবে উনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন সেটা তো জানতে হবে। তখনই তাঁর সম্পর্কে শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছি, তাঁর সঙ্গে একবার হলেও দেখা করতে পেরেছি, তাদের অনুভূতির সঙ্গে এই প্রজন্মকে মেলালে হবে না। আমাদের যে ‘তুই’ সম্বোধন করে ডাকটা দিতেন, সেটা যে কতটা আপন ছিলো, সেই মায়া কি এখন হওয়া সম্ভব?

মানুষ তো নানা কথা বলছেন সমালোচনায় বলছেন, যারা এমনভাবে শোক দিবস পালন করেন তারা আসলে দুধের মাছি- এ কথার জবাবে এই বীর মুক্তিযো’দ্ধা বলেন, আমি আসলে কাউকে দোষ দিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। আজকে কে কী করলো, কাল করবে না, সেটা ভাবতেও চাচ্ছি না। আমার কথা হলো তোমরা বঙ্গবন্ধুকে জানার চেষ্টা করো। বঙ্গবন্ধুকে যদি জানো, তাহলে তুমি কোন দল করো সেটা বিষয় না। তুমি তাঁকে ভালোবাসবেই। কিন্তু তারপরও যদি তাঁকে ভালো না বাসতে পারো তাহলে সে ওই পাকিস্থানি বীজ। যা দিয়ে পঁচাত্তরের আগে ঘা’তক তৈরী হয়েছে। পঁচাত্তরের পরে তাদের মদদদাতা তৈরী হয়েছে।

0 Shares