‘পূজা স্পেশাল’ ইলিশ যাচ্ছে, কিন্তু পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলো ভারত!

0 Shares

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘পূজা স্পেশাল’ ইলিশ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে ১ হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বছর পূজায় ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি করার অনুমতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এদিকে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘা’টতি দেখা দেওয়ায় নিজ দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের উপসচিব নারগিস মুরশিদা বলেন, ৯ জন রপ্তানিকারককে সীমিত আকারে ১ হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি পূজা স্পেশাল।

এদিকে ভারত অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘা’টতি দেখা দেওয়ায় নিজ দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে। হিলির কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস এ তথ্য জানিয়েছেন।

শংকর দাস বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় ভারতের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যা’হত হয়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ভারত সরকার হিলি কাস্টমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সে মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, সোমবার থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনও জারি হয়নি, তবে অচিরেই জারি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনও পেঁয়াজ রপ্তানি হবে না।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় রপ্তানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়েছেন, ভারত কোনও পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না। ভারত সরকার কাস্টমসকে নির্দেশ দিয়েছে পেঁয়াজ রপ্তানি না করতে, তারা সেটা জানিয়েছেন আমাদের। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের অনেক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা রয়েছে। আমরা তো এখন বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি।

আমরা তাদের বলেছি, আমাদের যেসব এলসি খোলা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য। আমাদের অনেক এলসির বিপরীতে অনেক ট্রাক মাল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন যদি তারা পেঁয়াজ না দেয়, তাহলে আমাদের এই পেঁয়াজের কী অবস্থা হবে- সেই চিন্তায় পড়েছি। আমরা কার কাছে ক্ষ’তিপূরণ চাইবো? তাই বিষয়টি অতি সত্বর সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এই মাছ রপ্তানির জন্য কোয়ারান্টাইন আদেশসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এই ইলিশ রপ্তানি শুরু হবে। এসব ইলিশের ওজন হবে ৮০০ থেকে ১২০০ গ্রাম। শিগগিরই বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসব মাছ যাবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে ইলিশ রপ্তানি আদেশের জন্য ২০০ জন রপ্তানিকারক আবেদন করেন। সেখান থেকে ৯ জনকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর যে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির আদেশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে ৩৫০ টনই গিয়েছিল বরিশালের মোকাম থেকে। এবারও রপ্তানির ৮০ শতাংশ বরিশাল মোকাম থেকেই যাবে।

0 Shares