দ্রুতগতির নামাজী!

39 Shares

আমরা চোর সম্পর্কে জানি, কৃপণতা সম্পর্কেও আমাদের ধারণা আছে। তবে সবচেয়ে হতভাগা তো সেই ব্যক্তি যে নামাজ চুরি করে, নামাজে কৃপণতা করে। প্রিয় ভাই ও বোন, নামাজ ছাড়া আখেরাতে নাজাত ও জান্নাতের সুযোগ নেই তবে আফসোস, খামখেয়ালি ও মুনাফিকি নামাজ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

– সঠিকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে কুরআন এবং হাদিসে অসংখ্য সতর্কবাণী দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নামাজে আন্তরিকতার কথা, খুশুখুজুর সাথে নামাজ আদায় করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন –

“নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ! যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।”[সূরা মুমিনুন: ১-৩]

– আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই আছি যারা ঝড়ের বেগে নামাজ আদায় করি, এক দেড় মিনিটে দুই রাকাত নামাজ পড়ে ফেলি, ফলে অনেক সময় নামাজের ফরজ/ওয়াজিব গুলোও ঠিক মত আদায় হয়না। নামাজ দ্রুততার সাথে করা কোনো ইবাদত নয়। কর্মব্যস্ত মানুষদের জন্য বলা হয়েছে নামাজ শেষ করে মসজিদে অবস্থান করো না কর্মস্থলে যাও, এটা বলা হয়নি যে নামাজ ঝড়ের বেগে যেমন খুশি আদায় করো।

– আমাদের একটা বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে যে মুনাফিকেরাও নামাজ পড়ে। কিন্তু মুমিন এবং মুনাফিকের নামাজ কখনো এক হয়না। মুনাফিক যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, অমনোযোগী ও খুব দ্রুত নামাজ পড়ে, নামাজ শেষ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে, এবং নামাজ শেষে দ্রুত মসজিদ থেকে প্রস্থান করে। আর লোক দেখানো নামাজ কস্মিনকালেও আল্লাহর কাছে কবুল যোগ্য নয়। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা করা হয়েছে-

“তারা যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তাদের উদ্দেশ্য লোক দেখানো। এবং তারা অল্প‌ই আল্লাহ কে স্মরণ করে থাকে।”[সূরা নিসা:১৪২]

রাব্বুল আলামীন আমাকে এবং আমাদেরকে এই মুনাফিকি বৈশিষ্ট্য থেকে হেফাজত করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরো বলেন-

“তারা যখনই নামাজে আসে অবসাদগ্রস্থের মতো আসে এবং যখনই আল্লাহর পথে খরচ করে অনিচ্ছাকৃতভাবে করে।”[সূরা তাওবাহ : ৫৪]

– প্রিয় ভাই ও বোন খুব খেয়াল রাখত হবে। আমরা যেন খুব সুন্দর ভাবে, ধীরস্থির ভাবে নামাজ আদায় করি। বলা হয়েছে, নামাজে এমন ভাবে দাঁড়াও মনে করো এটাই তোমার জীবনের শেষ নামাজ‌। নামাজে তাড়াহুড়ো করা যাবে না, কেরাত ও রুকু সিজদাহর তাসবিহ গুলো ধীরে ধীরে ইখলাসের সাথে পাঠ করার চেষ্টা করতে হবে। নামাজে চুরি করা যাবে না, যেমন খুশি তেমন ভাবে নামাজ আদায় করলাম এমনটা যেন না হয়, কোনরকম আদায় করে নামাজে চুরি যেন না হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন –

“মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় চোর ওই ব্যক্তি যে তার নামাজ চুরি করে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে কিভাবে নামাজ চুরি করে? তিনি বলেন, সে নামাজে রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না।”(মুসনাদে আহামাদ, হাদিস : ২২৬৯৫)

নামাজ যেখানে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত সেখানে নামাজের ব্যাপারে অলস ও উদাসীন হ‌ওয়ার দুঃসাহস দেখানো আমাদের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের মুহূর্তে তাঁর শেষ কথা ছিল নামাজের কথা। আমাদের মধ্যে যদি উপরোক্ত খারাপ অভ্যাস গুলো থাকে,চলুন আমরা এখন‌ই এর থেকে বেড়িয়ে আসি তাওবা করি। আর নামাজে মনোযোগী হ‌ওয়ার অন্যতম কার্যকরী উপায় হচ্ছে আমরা নামাজে যা পাঠ করি, যে তাসবিহ গুলো পাঠ করি তার অর্থ জানা। এ ব্যাপারে অবশ্য আমরা শুনেছি তবে জোর দিতে হবে আমলে। ওয়ামা তাওফিক্বি ইল্লা-বিল্লাহ্।

39 Shares