দিল্লি দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা অজুহাতে এখনও বন্দি ১৩০০ মুসলিম যুবক

0 Shares

দিল্লি পুলিশ মুসলমানদের ভুয়ো অভিযোগে গ্রেফতার করছে। পূর্ব দিল্লি মুসলিম মহল্লায় এক তরফা দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ১৩০০ মুসলিম যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের উপর ক্রমাগত চাপ আসছে, যাতে তারা প্রমাণ করে দেয় যে এই মুসলিম যুবকরাই দিল্লিতে গত ফেব্র‍ুয়ারি মাসে দাঙ্গা বাঁধিয়েছিল। এমন মন্তব্য করেছেন দিল্লি মাইনরিটিজ কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জাফরুল ইসলাম খান।

রিডিফমিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি মহলের একাংশ উঠে পড়ে লেগেছেন দিল্লি দাঙ্গার দায় মুসলিমদের উপর চাপাতে। ‘গোদি মিডিয়া’র বন্ধুদের এরাই বলেছেন, যাতে তাঁরা এভাবেই দাঙ্গার খবর প্রচার করে। তিনি বলেন, বিভিন্ন চার্জশিট এবং দাঙ্গার রিপোর্ট দেখলেই বোঝা যায় যে, এগুলি একতরফাভাবে পেশ করা হয়েছে আদালতে।

এমনকী দিল্লি হাইকোর্টও তাদের পর্যবেক্ষণে এ কথা জানিয়েছিল বলে দাবি করেন জাফরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, যারা এভাবেই তথ্যকে বিকৃত করে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের উপর দায় চাপাতে আগ্রহী, তারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য এ কাজ করছে। শুধু তাই নয়, তারা সলিসিটর জেনারেলের দফতরকে এ কাজে ব্যবহার করছে। খান বলেন, আমি কারোর নাম করতে চাই না। কিন্তু এই গর্হিত কাজ চলছে।

জাফরুল সাহেব তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, দিল্লি মাইনরিটি কমিশনের পক্ষ থেকে গত ২৪ ফেব্র‍ুয়ারি থেকেই পদক্ষেপ করেছিলাম যাতে দাঙ্গা থামানো যায়। কিন্তু আমাদের হাতে তো পুলিশ কিংবা সেনা নেই। আমরা পুলিশের বড় কর্তাদের মেসেজ পাঠিয়েছি, সরকারি আমলাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

এমনকী দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং ম‍ুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কথা বলে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। কথা বলেছিল, উত্তর-পূর্ব দিল্লির ডিসিপি-র সঙ্গে। দাঙ্গার ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেছি এদের সামনে। আমাদের যা যা করণীয়, সে সবই করেছি।

আমাদের বার্ষিক রিপোর্ট দেখলেই (অনলাইনে দেখা যাবে) বুঝতে পারা যাবে যে আমরা বিভিন্ন পন্থায় দিল্লির আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের জানিয়েছি। যাতে তারা দাঙ্গা থামাতে উচিত পদক্ষেপ করেন।

এমনকী, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ যেদিন জামিয়া মিল্লিয়ার ছাত্রদের উপর হামলা হয়, সে দিন দু’টি পুলিশ থানার সামনে মধ্যরাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেছি যাতে যাদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাদের সাহায্য করতে পারি।

দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আপনার মতে কে বা কারা বাধিয়েছিল এবং কারা এর ফলে লাভবান হয়েছে? — এই প্রশ্নের উত্তরে জাফরুল সাহেব বলেন, সেই সব শক্তি এই দাঙ্গার ফলে লাভবান হয়েছিল যারা সারাদেশে ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটিয়ে নির্বাচনে তাদের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করে।

তারা নির্বাচনে লাভবান হয় এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরাই দেশে ঘৃণার রাজনীতির কথা জোর গলায় প্রচার করে। তিনি বলেন, দিল্লি মাইনরিটি কমিশনের তরফে একটি দাঙ্গা সংক্রান্ত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট জারি করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে তদন্তের ভিত্তিতে প্রমাণ হয় যে, কপিল মিশ্রর বক্তৃতার পর দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসা শুরু হয়।

কিন্তু দিল্লি পুলিশ কপিল মিশ্রকে ক্লিনচিট দিতে বদ্ধপরিকর। পুলিশের বক্তব্য হল, কপিল মিশ্রর বক্তৃতার সঙ্গে দিল্লি দাঙ্গার সম্পর্ক নাকি তারা খ‍ুঁজে পায়নি। কিন্তু কমিশনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মিশ্রর বক্তৃতার শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে দিল্লিতে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বাস্তব ঘটনা হল যে কপিল মিশ্রকে ক্যামেরায় পুলিশের ডিসিপিকে ধমকাতে দেখা যাচ্ছে।

কপিল মিশ্র তাঁর ভাষণে বলছেন যে, তারা পথে নেমে পড়বেন (যদি সিএএ প্রতিবাদীরা শাহিনবাগ খালি না করে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা নিজেদের হাতে তুলে নেবে)। দিল্লি মাইনরিটি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, কপিল মিশ্রর এই হুমকির পর পরই দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তাহলে তার বক্তৃতার সঙ্গে দিল্লি হিংসার সম্পর্ক কীভাবে অস্বীকার করা যায়।

তিনি আরও বলেন, পরিহাসের বিষয় হল যাদের উপর হামলা চালানো হল তাদের নামেই পুলিশ দাঙ্গা বাঁধানোর মামলা দায়ের করল। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ করল যে, তারা নাকি বাইরে থেকে লোক এনে দাঙ্গা বাঁধিয়েছিল।

জাফরুল সাহেব বলেন, আমি দিল্লিতে ৩৫ বছর ধরে বসবাস করছি। কোনও মুসলমানের ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সমষ্টিগতভাবে এই সাহস হতেই পারে না যে, তারা বাইরে থেকে লোক এনে দাঙ্গা বাধাবে। তিনি বলেন, যেসব মুসলিম যুবকদের দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তাদের নামে ভুয়ো অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তাদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা অভিযোগগুলি মেনে নিক। এরপর জাফরুল সাহেব জানান যে, মোট ১৩০০ মুসলিম যুবককে দিল্লি দাঙ্গার প্রেক্ষিতে ভুয়ো অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে, যাতে তারা যেকোনওভাবে প্রমাণ করুক যে এই মুসলিম যুবকরাই দিল্লির দাঙ্গা বাঁধিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন দিল্লি মাইনরিটি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। সুত্র: পূবের কলম

0 Shares