ঢাকার ঐতিহাসিক মুসলিমবাগ ঈদগাহ এখন ঢাকেশ্বরী মন্দির!

0 Shares

জার্মানির হিটলারের প্রধান উপদেষ্টা জোসেফ গোয়েবলস এর একটি বহুল পরিচিত উক্তি হলো – “Repeat a lie often enough and it becomes the truth” অর্থাৎ একটি মিথ্যাকে বারংবার প্রচার করতে থাকলে মানুষ সেটাকে সত্যি হিসাবে মেনে নেয়।

ঠিক একইভাবে ভারতের মোদীর প্রধান সহযোগী অমিত শাহ একবার বিবৃতি দিয়েছিল যে – “ আমরা যে কোন মিথ্যাকে ভাইরাল করে দিতে পারি। “ অর্থাৎ তারা যে কোন মিথ্যাকে মিডিয়ার মাধ্যমে সত্য হিসাবে উপস্থাপন করতে পারে।

অবাক হওয়ার কিছু নেই, তারা ঠিক এইভাবেই হিন্দুদের বিশ্বাস করিয়েছে যে তাদের কল্পিত রাম বলে কেউ ছিল এবং তার জন্ম নাকি বাবরি মসজিদের স্থানে। এর ফলশ্রুতিতে তারা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে গায়ের জোরে সেইস্থানে রাম মন্দির তৈরি করছে।

এইবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে!

শায়েস্তা খাঁ, মোঘল আমলের একজন বিখ্যাত সুবাদার বা প্রাদেশিক শাসক ছিলেন। তিনি বাংলা শাসন করেন প্রথমবার ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয়বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল।

তাঁর শাসনামলে ঢাকায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয় এবং সেই সময় বহু মসজিদ, ঈদগাহ নির্মাণ করেন। তার মধ্যে বর্তমান পুরনো ঢাকার অভ্যন্তরে পলাশী ব্যারাক এলাকায় বুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসসমূহের দক্ষিণে একটি ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন, যার পাশে একটি মসজিদও ছিলো বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত বড় একটি ঈদগাহ হিসেবে বিখ্যাত ছিলো। ঐ স্থানটির তৎকালীন নাম ছিলো মুসলিমবাগ।

এই মুসলিমবাগ ঈদগাহটি তৎকালীন সময়ের ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ছিলো। ঈদগাহটির নাম ছিলো মুসলিমবাগ সুন্নী ঈদগাহ।

বিভিন্ন ইতিহাসে বর্ণিত, এখানে একটি বিশেষ কূপ ছিলো। যে কূপের পানি ছিলো অত্যন্ত সুমিষ্ট। যে পানি পান করলে অনেক কঠিন রোগও ভালো হয়ে যেতো। এই কুপটির সুনাম ভারত বর্ষসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো।

এই কূপের পানি খাওয়ার জন্য হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরাও এখানে আসতো। যেহেতু কূপটি মুসলমানদের ছিলো, তাই অনেক বিধর্মী এই কুপের পানি খাওয়ার জন্য বা নেয়ার জন্য আরজি করতো। মুসলমানদের মহানুভবতার কারণে সেই সুবিধা তারা শতভাগ লাভ করতো। এমনকি এই পানি খেয়ে উপকার পেয়ে অনেক বিধর্মী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ইতিহাস পাওয়া যায়।

এছাড়াও বহু বিধর্মী এই ঐতিহাসিক কূপের পানি পান করার জন্য কলকাতা, দিল্লী, গুজরাট, কানপুর, মিজোরাম, মেঘালয় থেকে আসতো। তারা এই কূপের পানিকে তাদের বুঝ অনুযায়ী “ঈশ্বরের জল” মনে করতো।

শুধু তাই নয়, ইংরেজরা এই ভারতীয় উপমহাদেশে আসার পরে এই কূপের পানি খেয়ে উপকৃত হয়ে এটাকে তাদের বুঝ অনুযায়ী “প্রফেসিক ওয়াটার” বলে আখ্যায়িত করেছিলো। অথচ কূপটির মূল ইতিহাস ও মালিকানা মুসলমানদের সাথে সম্পৃক্ত।

সময়ের আবর্তনে এই কূপের পানির লোভ তথা ঈদগাহ ময়দানের সৌন্দর্যবোধ বিধর্মীদের আকাঙ্খার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ব্রিটিশ আমলে হিন্দুরা ব্রিটিশদের পা চেটে, অনেক কাকুতি মিনতি করে অতি কৌশলে স্থানটি দখলদারিত্ব নিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে হিন্দুরা এই বরকতময় পানিকে তাদের মতো পবিত্র করার লক্ষ্যে এর ভেতর গো-চনা নিক্ষেপ করে ও নানা পূজা পার্বন করে। এর ফলে কিছুদিন পর পানি আশ্চর্যভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সেই পানি আর তারা উত্তোলন করতে পারেনি।

এক পর্যায়ে ব্রিটিশদের সহযোগিতায় এই কূপ ও ঈদগাহের সমস্ত ইতিহাস তারা মুছে দেয় এবং মিথ্যা নতুন ইতিহাস তৈরি করে।

সেই মিথ্যা ইতিহাসে হিন্দুরা বলে, ১২শ শতাব্দীতে বল্লাল সেন এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু ঐতিহাসিকরা আগেই প্রমাণ করেছে তৎকালীন যুগের মন্দিরের নির্মাণ শৈলীর সাথে এর কোনো মিল নেই।

এই স্থানটি পরবর্তীতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রূপধারণ করে। হিন্দুরা সেখানে দুর্গা পূজার প্রচলন ঘটায়। বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি হচ্ছে দূর্গাপূজার সবচেয়ে বড় স্থান। যেহেতু দুর্গাপূজার বিশেষত্বেই এই মন্দিরের পরিচিতি সুতরাং এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা ব্রিটিশ আমলেই। কেননা, ব্রিটিশ আমলেই দুর্গাপূজার প্রচলন হয়। এর আগে দুর্গা পূজা বলতে হিন্দুদের মধ্যে কোনো উৎসব ছিলো না।

প্রকৃতপক্ষে, বর্তমানের ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জায়গাটি ছিলো শায়েস্তা খাঁর আমলের মুসলিমবাগ ঈদগাহ-এর জায়গা। কুচক্রী হিন্দু সম্প্রদায় ছলে বলে কৌশলে সেই স্থানটি ব্রিটিশদের কাছ থেকে তাদের নামে বরাদ্দ নিয়ে মুসলমানদের ঈদগাহ ধ্বংস করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে।

লিখেছেনঃ বাহাউদ্দিন কবির।

0 Shares