ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার তৈরি পদ্ধতি ও প্রয়োগ

0 Shares

বাগানের গাছে বা টবের গাছে ডিমের খোসা বা খোসার তৈরি সারের ব্যাবহার সম্পর্কে। আর এটি জানার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন গাছের খাদ্য বা পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে যা গাছ খাবার হিসেবে গ্রহন করে।

ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার তৈরি পদ্ধতি ও প্রয়োগ বিধি :

❏ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি:
সম্পুর্ন ডিমের খোসায় আছে ক্যালসিয়াম(5%) 50 mg, লোহা (9%) 1.2 mg, ম্যাগনেসিয়াম(3%) 10 mg, ফসফরাস (25%) 172 mg, পটাশিয়াম(3%) 126 mg, দস্তা/Zinc (11%) 1.0 mg অর্থাৎ মাটির পুষ্টির জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, তার অনেকটুকুই ডিমের খোসায় পাওয়া যায়৷ গাছের বৃদ্ধির পাশাপাশি বিন্যাসেও সাহায্য করে ডিমের খোসা৷

গাছের খাবার কে সাধারণত ২ ভাগে ভাগ করা হয়।

১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস ও ২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টস

এই ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টস কে আবার ২ ভাগে ভাগ করা হয়

১। প্রধান পুষ্টি মৌল ২। মাধ্যমিক পুষ্টি মৌল

গাছের প্রধান পুষ্টি মৌল তিনটি
NPK – নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ। কিন্তু আমরা নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ নিয়ে আলোচনা করবো না।

মাধ্যমিক পুষ্টি মৌল উপাদান নিয়ে। মাধ্যমিক পুষ্টি মৌল এর মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার এই তিনটির মধ্যে আজ আমরা আলোচনা করবো ক্যালসিয়াম পুষ্টি উপাদান নিয়ে।

আর এই ডিমের খোসার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম। আর এই ডিমের খোসার মাধ্যমে আমরা গাছকে ক্যালসিয়াম করতে পারি বা করে থাকি।

ক্যালসিয়াম গাছে কি কাজে লাগে?
তো কিভাবে ব্যাবহার করা যায় তা আমরা জানবো তার আগে সংক্ষেপে জেনেনেই ক্যালসিয়াম গাছে কেন দিব বা ক্যালসিয়াম গাছে কি কাজে লাগে?

ক্যালসিয়াম এটি উৎসেচককে কার্যকর করে তোলে। এটি কোষ প্রাচীরের অন্যতম উপাদান।

কোষের মধ্যে জল সঞ্চালনে সহায়তা করে, কোষের বৃদ্ধি এবং কোষ বিভাজনের জন্যও এটি জরুরি।
নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য খনিজ আত্মীকরণ করার জন্য কিছু গাছে ক্যালসিয়াম আবশ্যক।

ক্যালসিয়াম সহজেই আলাদা হয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু উদ্ভিদ টিস্যুতে এক বার জমে গেলে ক্যালসিয়াম সেখান থেকে বেরোয় না। তাই গাছের বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ভাবে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করেতে হয়।

ক্যালসিয়ামের অভাবে কি হয়?
ক্যালসিয়ামের অভাবে ফুল, কাণ্ড ও শিকড়ের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর অভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিকৃতি, পাতা ও ফলে কালো দাগ দেখা দেয়। পাতার ধার ঘেঁষে হলুদ রঙ দেখা দিয়ে থাকে।

ব্যাবহার ও প্রয়োগ
টবের গাছে ব্যাবহারের ক্ষেত্রে

৮ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ

১০ ইঞ্চি টবে ১ টেবিল চামচ

১২ ইঞ্চি টবে ১.৫ টেবিল চামচ

ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার তৈরি পদ্ধতি
এবার জেনেনেয়া যাক কিভাবে ডিমের খসাকে ব্যাবহার উপযোগী করা যায়।

Eggshells Fertilizer powder
এক্ষেত্রে আপনাকে ডিমের খোসাকে সংগ্রহ করতে হবে বা বাড়ীতে বেবহৃত ডিম থেকে খোসা সংগ্রহ করতে হবে। সংগ্রহকৃত ডিমের খোসাকে না ধুয়ে ভালভাবে শুঁকিয়ে নিতে হবে। শুকানো ডিমের খোসা গুলকে গুড়ো করে পাউডারে রূপান্তর করতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্লেন্ডার, মিক্সচার ব্যাবহার করা যেতে পারে বা জাতুনিতে পিশেও তৈরি করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে খোসা গুলো জেন ভালভাবে মিহি হয়, দানা দানা যেন না থেকে যায়। দানা দানা থেকেগেলে এগুলো বেবহারে বা গাছে প্রয়োগের পর তাতে পিঁপড়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই এমন পাউডার তৈরি করতে হবে যাতে পিঁপড়ে তাতে আক্রমণ করে সেগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে না পারে।

0 Shares