ডা. আজাদের বিলাসী জীবনযাপনে হতভম্ব দুদক!

0 Shares

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। পদত্যাগের পর তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দ’মন কমিশন (দুদক) এবং এই তদন্ত করতে গিয়ে তার রাজসিক জীবনে বিস্মিত হয়েছে দুদক কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন নির্দিষ্ট বেতনে। কিন্তু তার জীবনযাত্রা যেন কোটিপতি ব্যবসায়ীদের জীবনাযাত্রাকেও ম্লান করে দিয়েছে।

তিনি পেশাদার চিকিৎসক ছিলেন না, চেম্বারে বা কোনো হাসপাতালে তিনি প্র্যাক্টিস করতেন না। অনেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন যারা পেশাদার চিকিৎসক ছিলেন এবং চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে আয় উপার্জন করে সম্পদের মালিক হয়েছেন। কেউ কেউ আবার সর্বোচ্চ করদাতাও হয়েছিলেন।

কিন্তু অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রে তেমনটা হওয়ার কথা নেই। কারণ তার যে বিষয়টি ছিল, সেই বিষয়ে প্র্যাক্টিসের কোন সুযোগ ছিলোনা। সারাজীবন তিনি সরকারি চাকরি করেছেন, একটি নির্দিষ্ট অংকের বেতন নিয়েই তিনি চলেছেন। কিন্তু এই স্বল্প আয়ের একজন সরকারি চাকুরে কীভাবে বনানীতে ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের একটি বিলাসবহুল বাড়িতে থাকেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ দুদক।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুদক আরও দেখেছে, আপাতভাবে সৎ এবং বারবার নিজের সততার কথা বলা এই ব্যক্তিটির একটি অন্ধকার জগত রয়েছে। সেই অন্ধকার জগত থেকে পাওয়া অর্থই তাকে বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত করেছে। তাকে নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাপক কানাঘুষা হতো। সেসবের অতি ভগ্নাংশও যদি সত্য হয়, তবে বলতে হবে তিনি সত্যিই এক টাকার কুমির।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডা. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিক। এমআইএস-এর জন্য ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরু’দ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। সেই সময়ে শত কোটি টাকার সফটওয়্যার কেনাবেচার দায়িত্ব পালন করেছিল ডা. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রীর মালিকানাধীন এই সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটি। তিনি যখন যে পদেই ছিলেন না কেন সেই পদে থেকেই তিনি এমআইএস এর নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ- এমন একটি ধারণা সরকারের উচ্চমহলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং এই ধারণা দিয়েই তিনি মহাপরিচালকের পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন বলে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডা. আবুল কালাম আজাদের নির্দেশেই তার প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে এমআইএস-এ কাজ করতো এবং সমস্ত ওপেন সোর্সের সফটওয়্যারের একটি মূল্য ধরে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মজার ব্যাপার হলো, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হওয়ার পর আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থা চালু করেন। প্রতিটি হাসপাতালের উপস্থিতি কার্যক্রম নিরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের জন্যে একটা সফটওয়্যার চালু করেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, এটা অস্ট্রেলিয়ার একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার। তিনি ডাউনলোড করে এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জন্যে ব্যবহার করেছেন। আবার প্রতি মাসে এই সফটওয়ারের মেইনটেন্যান্স বাবদ তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এরকম একটি ঘটনা নয়, অনেকগুলো ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে আজাদের বিরু’দ্ধে।

জানা গেছে, আজাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেন্ডার মাফিয়া মিঠুর গোপন যোগসাজশ ছিল এবং দেশের বাইরেও তাদের মাঝে আর্থিক লেনদেন হতো এমন প্রাথমিক তথ্য দুদকের কাছে এসেছে। আর এই কারণেই মিঠুকে কখনো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়নি। যখনই দেখা গেছে, কেউ মিঠুর জন্য হুম’কি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, তখনই তাদের কাজে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন- এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, আবুল কালাম আজাদের বিরু’দ্ধে তাদের কাছে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। তারা সেসব খতিয়ে দেখছেন। সম্প্রতি রিজেন্ট এবং জেকেজিকাণ্ডে এই অভিযোগগুলো আবার সামনে এসেছে। এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছে দুদক।

বাংলাইনসাইডার

0 Shares