চীনের ব্যাপারে ‘হিসেবে ভুল করলে’ ভারতকে চড়া মূল্য দিতে হবে!

326 Shares

গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের-প্ররোচনায় সীমান্ত সঙ্ঘর্ষ হওয়ার পর থেকে ভারতের জাতীয়তাবাদ দ্রুতগতিতে বাড়ছে, এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিডিয়া এখনও এই ঘটনার ব্যাপারে ভুল তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চীনা পণ্য বয়কট করলে ভারতের কোন লাভ হবে না।

চীনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার চীন-ভারত সীমান্ত সঙ্ঘর্ষ নিয়ে বিবৃতিদিয়েছে। ভারত সরকার ও ভারতীয় মিডিয়ার প্রচারিত ভুল তথ্যের জবাব দিয়েছে তারা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাউ লিজিয়ান বুধবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ভারতীয় সেনারা গালওয়ান উপত্যকায় একতরফাভাবে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করে আসছে।

চীন প্রতিনিধি পাঠিয়ে একাধিকবার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। খবর সাউথ এশিয়ান মনিটর’র। ৬ মে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে রাতে চীনা এলাকায় অনুপ্রবেশ করে।

চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বুধবার আরেক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, চীনাদের প্রচেষ্টায়, এবং বিভিন্ন চ্যানেলে যোগাযোগের পর দুই পক্ষ ৬ জুন কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করে এবং উত্তেজনা প্রশমনে দুই পক্ষই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়।

উ বলেন, “ভারতীয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা গালওয়ান উপত্যকায় ঢুকে টহল দেবে না বা ফ্যাসিলিটি নির্মাণ করবে না” এবং উভয় পক্ষই সেখান থেকে সেনাদের সরিয়ে নিতে সম্মত হয়। “কিন্তু ১৫ জুন ভারতীয় পক্ষ প্রকাশ্যেই চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে চীনাদের উসকানি দেয়”।

উ বলেন, “চীনা সামরিক সেনারা যখন দর কষাকষির জন্য সেখানে পৌঁছায়, তখন ভারতীয় সেনারা হঠাৎ তাদের উপর হামলা করে, আর এ কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে সঙ্ঘর্ষ ও হতাহত হয়েছে”।

উ বলেন, চীনা সেনারা আত্মরক্ষার্থে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় সেনাদের সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে লড়াই করেছে এবং এর মাধ্যমে কার্যকরভাবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে তারা রক্ষা করেছে।

উ জোর দিয়ে বলেন “ভারতের চুক্তি ভঙ্গ এবং একতরফা উসকানির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, এবং এটা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ রেখার চীনা অংশের মধ্যে যেটার ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত। এই সঙ্ঘর্ষের কারণ তৈরির পুরো দায়দায়িত্ব ভারতীয়দের নেয়া উচিত।

চীন ভারতের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে, যাতে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভারত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, তাদের ফ্রন্টলাইনের সেনাদেরকে যাতে তারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, এবং এটা নিশ্চিত করে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে”।

এক ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেন চীন এখন কেন এই বিবৃতি দিলো। প্রশ্নের জবাবে ঝাউ বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় মিডিয়া সাম্প্রতিককালে প্রচুর ভুল তথ্য ও ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। এই বিবৃতি দেয়ার উদ্দেশ্য হলো গুজবকে খণ্ডন করা এবং বিশ্বকে সত্য তথ্য জানানো।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বাউন্ডারি অ্যাণ্ড ওশান অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর জেনারেল হোং লিয়াং বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইস্ট এশিয়া ডিভিশানের যুগ্ম সচিব নাভিন শ্রীবাস্তবের সাথে সীমান্ত বিষয়ক ভিডিও বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

দুই পক্ষের কূটনীতিক, প্রতিরক্ষা ও অভিবাসী বিভাগের প্রতিনিধিরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষ সাম্প্রতিক সীমান্ত সঙ্ঘাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে, এবং ১৭ জুন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে ঐক্যমতে ও চুক্তিতে পৌঁছেছে, সেটা বাস্তবায়নের ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্লোবাল টাইমস

326 Shares