চারপাশে ‘রাজাকারের বাচ্চাদের উল্লাস’ || মোহাম্মদ এ. আরাফাত

4K Shares

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন যখন করোনা আক্রা’ন্ত হলেন, এদেশের পাকি প্রেতাত্মারা ‘উল্লাস’ প্রকাশ করলো। রাজাকার শাবকদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মুক্ত পাতায় প্রকাশ্যে তার মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলো। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান যখন আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, তার মতো একজন অজাতশ’ত্রু নিষ্পাপ মানুষের মৃ’ত্যু নিয়েও ‘উল্লাস’ প্রকাশ করলো রাজাকার ছানাগুলো।

রাজাকার শাবকগুলো সার্বক্ষণিক মুহম্মদ জাফর ইকবালেরও মৃ’ত্যু কামনা করে। এরাই তাকে শারীরিকভাবে আক্র’মণও করেছিল হ’ত্যার উদ্দেশ্যে। আক্রা’ন্ত হয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবাল যখন হাসপাতালে তখন রাজাকার শাবকগুলো প্রতিনিয়ত তার মৃ’ত্যু কামনা করেছে।

সৈয়দ আশরাফের মতো সজ্জন রাজনীতিবিদের মৃ’ত্যুতেও তাদের ‘উল্লাস’ দেখেছি! অথচ, তারা পাকি আফ্রিদির করোনা পজিটিভে শোকে কাতর!

আমার যে কোনও লেখা বা বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজাকার শাবকগুলো তাদের মন্তব্যে যে রকম ঘৃ’ণার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তাতে মনে হয় ওরা আমার মৃ’ত্যু কামনা করে এবং আমার মৃ’ত্যুতে ওরা ‘উল্লাস’ প্রকাশ করবে। আমার অপরাধ কী ওদের কাছে? আমি কি ওদের পাকা ধানে মই দিয়েছি? হ্যাঁ, দিয়েছি। আমি প্রগতিশীলতার কথা বলি, আমি অ’সাম্প্রদা’য়িকতার কথা বলি, আমি মুক্তিযু’দ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলি। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থেই আমি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের বিরু’দ্ধে ওদের মিথ্যা অপ’প্রচারের জবাব দেই। আর এই জন্যই ওরা আমাকে ঘৃ’ণা করে। একই কারণে ওরা অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের মৃ’ত্যু কামনা করে, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃ’ত্যুতে ‘উল্লাস’ প্রকাশ করে।

লুকিয়ে থাকা পাকি প্রেতাত্মা-রাজাকার-দালাল গং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হ’ত্যাকাণ্ডের পর বিজয় মিছিল করেছিল ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে। ১৫ আগস্ট ছিল ওদের জন্য উৎসবের দিন। এরাই ১৫ আগস্টে কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন করার নামে আসলে করে ‘উল্লাস’। মোহাম্মদ নাসিমের ‘মৃত্যুতে এদের উল্লাসের মূল কারণ কিন্তু একই। শুধু আমাদের কেউ কেউ না বুঝেই পা দিয়েছে ওদের ফাঁ’দে।

একই ঘৃ’ণার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ওরা গ্রেনেড ছুড়ে মে’রেছিল শেখ হাসিনার দিকে, কেড়ে নিয়েছিল ২৪টি নিষ্পাপ প্রাণ। ওদের ঘৃ’ণার কোনও সীমা-পরিসীমা নেই। ওরা চায় প্রগতিশীল রাজনীতির মৃ’ত্যু। ওরা চায় বাংলাদেশে পাকিতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃ’ত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখ লাখ ফেক আইডি ব্যবহার করে ‘উল্লাস’ প্রকাশের প্লাবন তৈরি করে ওরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রা’ন্ত করতে চায়। ওরা দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ ঘৃ’ণিত দল। ঠিক যেভাবে মিথ্যা অপ’প্রচারের ডালা সাজিয়ে ১৯৭২-৭৫ সালে আওয়ামী লীগকে তারা ঘৃ’ণিত করে তুলতে চেয়েছিল সাধারণদের মনে। অনেকখানি সফলও হয়েছিল তারা।

ধ’র্ষক-ঘা’তক, যু’দ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর ঘা’তকদের বিচার প্রক্রিয়া বল প্রয়োগ করে এদেশীয় পাকি দালাল গং, রু’দ্ধ করে রেখেছিল বছরের পর বছর। ন্যায্য বিচারের প্রত্যাশায় বুক বেঁধে ছিল দীর্ঘদিনের ডুকরে ডুকরে কান্না। তাই বিচার প্রক্রিয়া সমাপ্তি ও সাজা বাস্তবায়নের পরে মুক্তিযু’দ্ধের পক্ষশক্তির যে ‘উল্লাস’ ছিল, তা ছিল অ’ন্যায়ের বিরু’দ্ধে বিচার পাওয়ার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। অথচ, পাকি দালাল-রাজাকার শাবকগুলো তা মেনে নিতে পারেনি। ওরা ইসলামের নামে ধ’র্ষণ, হ’ত্যা, অগ্নিসংযোগ, শিশুহ’ত্যা— সবকিছু জায়েজ করবে, আর তার বিচার করলে ওদের ঘৃ’ণা আরও বাড়বে।

আমাদের প্রতি তাদের সকল ঘৃ’ণা উড়ে যাবে এবং প্রেম চুইয়ে পড়বে এখনই, শুধু আমরা যদি প্রগতিশীলতা-অ’সাম্প্রদা’য়িকতাকে পরিত্যাগ করে মৌলবাদী পাকিতন্ত্রকে আলিঙ্গন করে নেই।

কিন্তু আমরা ওদের মতো বন্য নই। আমরা ওদের মতো অ’সভ্য নই। আমরা আছি ন্যায্য ল’ড়াইয়ে। আমরা দীর্ঘদিনের রু’দ্ধ মহা অ’ন্যায়ের বিচারের রায়ে ‘উল্লাস’ প্রকাশ করি, কারও মৃ’ত্যুতে নয়। আমরা ডা. জাফরুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও তার প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কারকে স্বাগত জানাই, তার সাফল্যকে তরান্বিত করতে অবদান রাখি। তিনি অসুস্থ হলে, ‘উল্লাস’ নয় উদ্বেগ প্রকাশ করি। মনেপ্রাণে তার সুস্থতা কামনা করি।

কারণ, আমরা প্রগতিশীল। আমরা ইতিবাচক রাজনীতির পক্ষে। আমরা সহনশীলতার পক্ষে। আমরা ঘৃ’ণার বিপক্ষে।

এখন বলুন, গণতন্ত্র চান? বন্য পশুদের দিয়ে পশুতন্ত্র হয়, গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্রের জন্য লাগে ‘গণ’, পশুদের দিয়ে গণতন্ত্র হয় না। অন্তরে যাদের এতো ঘৃ’ণা, মানুষের মৃ’ত্যুতে যারা ‘উল্লাস’ প্রকাশ করে। যারা ধর্মের নামে নারী ধ’র্ষণ করে, রাজনীতির নামে শিশুহ’ত্যা করে, কৌশলের নামে গ্রেনেড ছুড়ে মারে, তাদের দিয়ে আপনি ‘গণতন্ত্র’ ‘গণতন্ত্র’ খেলবেন? হবে না। এরা পাশবিক, এদের গণতন্ত্র দিলে এরা গণতন্ত্রকে ছিঁড়ে খাবে। এরা গণতন্ত্রের যোগ্যই না। এরা গণতন্ত্র চায় মানুষের ওপর পশুতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

লেখক: মোহাম্মদ এ. আরাফাত
অধ্যাপক, চেয়ারম্যান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন

4K Shares