ক্লাসে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, ফ্রান্সে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা

0 Shares

ক্লাসরুমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের জেরে ফ্রান্সে এক শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হত্যাকারীকেও গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।

শুক্রবার প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমে কনফ্লানস সেইন্তে-হনোরাইন এলাকার একটি রাস্তায় ঘটেছে এ হত্যাকাণ্ড।

নাম গোপন রাখার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর হাতে একটি ছুরি ও একটি এয়ারসফট গান ছিল। শিক্ষককে হত্যার স্থান থেকে ৬০০ মিটার দূরে ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে ইতিহাসের ওই শিক্ষক তার ক্লাসে মহানবী (স)-এর কিছু ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, যা মুসলিমদের কাছে খুবই আপত্তিকর। ওই ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে বিতর্ক আয়োজনের পর থেকেই হত্যার হুমকি পাচ্ছিলেন তিনি।

শুক্রবার নিজ কর্মস্থল মিডল স্কুলটির সামনের সড়কেই হামলার শিকার হন ওই শিক্ষক।

এদিকে, ফ্রান্সের বিচার বিভাগীয় একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক শিশুসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এদের মধ্যে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সম্প্রতি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর কোনও সন্তান স্কুলটিতে পড়ে না। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ফরাসি সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলী জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন তারা।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ জনসাধারণকে আপাতত ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

এরাগনির মেয়র থিবল্ট হাম্বার্ট দ্রুততার সঙ্গে সন্দেহভাজন অপরাধীকে নিষ্ক্রিয় করায় পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, শুক্রবারের এ হামলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ক্রাইসিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আর্মেনিয়া নেতিবাচক কর্মকাণ্ড চালালে পুরো কারাবাখ দখল করে নেব: আজারবাইজান

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আর্মেনিয়া নেতিবাচক ক্রিয়াকলাপ চালালে তার দেশের সেনাবাহিনী পুরো নগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল দখল করে নেবে। তবে একইসঙ্গে তিনি একথাও বলেছেন, তিন দশকের আলোচনা শেষে এই অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দু’দেশের মধ্যকার বিরোধের মীমাংসা হতে চলেছে বলে তিনি ধারনা করছেন।

জাতিগত আর্মেনীয় নাগরিক অধ্যুষিত নগরনো-কারাবাখ অঞ্চল আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি। তবে ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিক থেকে অঞ্চলটি আর্মেনিয়ার মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। ইয়েরেভান ও বাকু উভয়ই এক্ষেত্রে উসকানি দেয়ার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে।

আলিয়েভ আজ তুর্কি নিউজ চ্যানেল এনটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, কারাবাখের পাঁচটি বড় অঞ্চলের মধ্যে আজারি সেনারা এরইমধ্যে দু’টির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আর্মেনিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই অঞ্চল ত্যাগ না করলে আজারবাইজানের সৈন্যরা বাকি তিনটি অঞ্চলও দখল করে নেবে।

আলিয়েভ একইসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ করে কারাবাখ সংকটন নিরসনে গঠিত মিনস্ক গ্রুপ গত ২৮ বছরের এই বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ফ্রান্স, রাশিয়া ও আমেরিকার উদ্যোগে ১৯৯০-এর দশকে মিনস্ক সংকট নিরসনের জন্য মিনস্ক গ্রুপ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এই গ্রুপের গত প্রায় তিন দশকের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট বলছেন, এবার এই গ্রুপ জোরেসোরে চেষ্টা করলে কারাবাখ সমস্যার একট সমাধান আসতে পারে। পার্সটুডে

0 Shares