কোটায় নিয়োগ পেয়েছিল ওসি প্রদীপ কুমার; আছে হাজারের উপর ভারতীয় নাগরিকও

0 Shares

সরকারি চাকুরিতে ‘কোটা’ একটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। সেটা যে কোনো শ্রেণীর যে কোনো কোটা-ই হোক না কেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আন্দোলনের ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকুরিতে ‘কোটা’ প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটা খুব ভাল একটা কাজ করেছে সরকার। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কোটা বিলুপ্ত করা হয়নি। যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা ছিল ৫৬%, সেখানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর চাকরিতে ৭০ শতাংশই কোটায় নিয়োগ হয়। অর্থাৎ প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণীর চেয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির নিয়োগে বৈষম্য আরো অনেক বেশি।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদসমূহের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের কোটার শতকরা হার হচ্ছে এতিম নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, মহিলা কোটা ১৫ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্যদের কোটা ১০ শতাংশ। এই হল মোট ৭০ শতাংস কোটা। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ পদ সাধারণ প্রার্থীদের জন্য। (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর)
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ওসি প্রদীপ কুমারকে এসআই পদে তৃতীয় শ্রেণীর কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এছাড়া অনেক ভার*তীয় নাগরিক বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ভূয়া নাগরিকত্ব তৈরি করে কোটায় তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পুলিশে।

কোটা প্রথার এমন বৈষম্যমূলক নিয়োগের ফলেই বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের মেধাবীরা, নিয়োগ পায় প্রদীপ কুমারদের মত ভার*তীয় দালালরা। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা প্রথাটা এখন পুরোদমে ইউজ করছে ভা*রত। ভার*তের ইশারায় অনেক ভার*তীয় নাগরিক বিভিন্ন জেলার নাগরিকত্ব দেখিয়ে জেলা কোটা কাজে লাগিয়ে ঢুকে যাচ্ছে পুলিম-প্রশাসনে। এ প্রসঙ্গে আপনারা যমুনা টেলিভিশনের এই নিউজটি – লিংক কমেন্ট বক্সে।

দেখতে পারেন যেখানে দেখানো হয়েছে যে হাজার হাজার ভা*রতীয় নাগরিক বিভিন্ন জেলার নাগরিকত্ব তৈরি করে জেলা কোটায় পুলিশে নিয়োগ পেয়েছে। আর বাংলাদেশের পুলিশ-প্রশাসনে এই ভারতীয় নাগরিকগুলোই মেজর সিনহাদের মত মেধাবী দেশপ্রেমিকদের হ*ত্যা, গুম, খু*নসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে ভার*তীয় স্বার্থ আদায় করে চলেছে। আমি ‘শ্রাবন ইস্পাহানী’ একে একে সেসব বের করে জনসাধারণের নিকট প্রকাশ করবার চেষ্টা করবো।

অতএব ভার*তীয় নাগরিকরা যে বাংলাদেশের পুলিশ-প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করছে দেদারসে এর অন্যতম একটা মাধ্যম হলো বিদ্যমান কোটা প্রথা। কাজেই ভার*তীয় আগ্রাসন এবং বাংলাদেশ পুলিশে ভার*তীয় নাগরিকদের নিয়োগ ঠেকাতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কোটা পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার বিচারেই নিয়োগ দিতে হবে সরকারি চাকুরিতে। এজন্য পুনরায় সরকারের নিকট জোরালো দাবী তোলা দরকার।

0 Shares