কী হচ্ছে বিএনপির ভেতরে?

0 Shares

বিএনপির ভেতরে অ’স্থিরতা এবং নৈ’রাজ্য বিরাজ করছে। দলের নেতাকর্মীরা জানেন না দলে কী হচ্ছে? দলের করণীয় কী? সেই সম্পর্কেও নেতারা কিছু বলতে পারছেন না। খালেদা জিয়া কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। আর লন্ডন থেকে তারেক রহমান তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে মনোযোগ দিচ্ছে না। ফলে, বিএনপি দিকভ্রান্ত, নেতারা নির্দেশনাহীন এবং কর্মীরা জানে না নেতারা কী ভাবছেন এবং তাদের করণীয় কী? এই রকম একটি পরিস্থিতিতে বিএনপিতে ক্রমশ অ’স্থিরতা ও হতা’শা বাড়ছে। যে সমস্ত বিষয় নিয়ে বিএনপির মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তারমধ্যে রয়েছে-

কমিটি বাণিজ্য, নেতারা অন্ধকারে

বিএনপিতে একের পর এক কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে। এই সমস্ত কমিটিগুলো লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে ঘোষিত হচ্ছে। যেখানে যেখানে তারেক অর্থ পাচ্ছেন, যেখানে আর্থিক বনিবনা সঠিকভাবে হচ্ছে; সেখানেই তারেক কমিটি দিচ্ছেন। জানা গেছে, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটিতে সদস্য দেওয়ার জন্য বিভিন্ন নেতার কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন তারেক। যারা অর্থ প্রদান করবে তাদেরকে কমিটিতে নেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতেও লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। লন্ডনে টাকা পাঠানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এটি নিয়ে নেতাদের মধ্যে হতা’শা ও ক্ষো’ভ ক্রমশ বাড়ছে।

খালেদার জামিন, নেতারা জানেন না

খালেদা জিয়ার প্রথম দফায় যখন ৬ মাসের জামিন হয়, তখন নেতারা অন্ধকারে ছিলেন। আইনমন্ত্রীর ঘোষণার আগে বিএনপির কোন নেতাই কিছু জানতেন না। টিভির পর্দায় তারা প্রথম জানতে পারেন, খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দেওয়া হচ্ছে। এবারও খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির ব্যাপারে আসলে কী হচ্ছে নেতারা জানেন না। খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম ইস্কান্দার নেতাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এ ব্যাপারে যেন তারা নাক না গলায়। এটা তাদের বিষয় নয়।’ একই মনোভাব পরিবারের অপর সদস্যদেরও। ফলে নেতাদের মধ্যে এক ধরণের হতা’শা তৈরি হয়েছে।

রাজনীতিতে আগ্রহ নেই খালেদার

বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো জেল থেকে বেরোনোর পর সাড়ে ৪ মাসে খালেদা জিয়া কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াননি। এমনকি দুইটি ঈদে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদ্যসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছাড়া তিনি কোন দলীয় নেতাদের সঙ্গে দেখাও করেননি। বিএনপি কীভাবে চলবে বা বিএনপিতে কী করতে হবে এই বিষয়ে কোন নির্দেশনাও দেননি। এমনকি দলের নেতারা তাকে টেলিফোন করলেও তিনি বি’রক্তি প্রকাশ করছেন। স্পষ্টতই খালেদা জিয়ার রাজনীতির ওপর এক ধরণের অ’নাস্থা তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলেছেন তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, রাজনীতিক ব্যাপারে এই কারণে তার কোন আগ্রহ নেই। এই রকম বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি কীভাবে চলবে? এই নিয়ে বিএনপির মধ্যে এক ধরণের হতা’শা এবং অ’স্বস্তি তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমান চায় শুধু টাকা

বিএনপিতে সবচেয়ে বড় উপদ্রব হল তারেক রহমান। লন্ডন থেকে তিনি বিভিন্ন রকম আদেশ নির্দেশনা দিচ্ছেন। যার মূল কথা হল টাকা। বিএনপিকে তিনি টাকার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছেন। কখনো মনোনয়ন বাণিজ্য, কখনো কমিটি বাণিজ্য করে যে কোন মূল্যে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার একমাত্র উদ্দেশ্যে। এখন বিএনপির অনেকেই তারেকের সঙ্গে যোগাযোগে অ’নাগ্রহ প্রকাশ করেন। কারণ টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বুঝেন না। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও বলেন, জেলা পর্যায়ের কমিটি, এমনকি স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিও তারেক নিলামে তুলেছেন। টাকার বিনিময়ে কমিটি দিচ্ছেন। এটি দলের জন্য এক ধরণের অশনি সংকেত।

কর্মীরা দিক নির্দেশনাহীন

দলের মহাসচিব বা স্থায়ী কমিটির নেতারা কর্মীদেরকে কী নির্দেশনা দিবেন। এ সম্পর্কে তারা যেমন কিছু জানেন না। তেমনি কর্মীরাও দিকনির্দেশনাহীন, তারা জানে না কী করবে? সামনেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশব্যাপী কী ধরণের কর্মসূচী নেওয়া হবে- এই সম্পর্কে তৃণমূলের নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চেয়েছিলো। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তার কোন জবাব দিতে পারেনি।

এ রকমভাবে একটি দল কীভাবে চলবে সে নিয়ে বিএনপিতে কারো কারো ভাবনা রয়েছে। বিএনপিতে এই অ’স্থিরতা এবং হতা’শা ক্রমশ দানা বাঁধছে বলেই বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বাংলাইনসাইডার।

0 Shares