ইসলামিক রাষ্ট্রের পরিচয় মুছে ফেলছে সুদান

0 Shares

দীর্ঘ ৩০ বছর পর ইসলামিক রাষ্ট্রের পরিচয়ই মুছে ফেলছে উত্তর আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদান। দেশটির ৯৭% মানুষই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ১৯৮৯ সাল থেকে সুদানে ইসলামিক আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয়।

কিন্তু সুদান সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সশস্ত্র আন্দোলন করে চলছিল “পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট” নামে এক বিপ্লবী সংগঠন। তারা বরাবর চেয়েছিল সুদানকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে।

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় হওয়া ওই শান্তি চুক্তিতে উভয়পক্ষই সুদানের সংবিধানকে ধর্মনিরপেক্ষ করতে সম্মত হয়েছেন। শান্তি চুক্তিতে বলা হয়েছে- “ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে পৃথক করে এক ধর্মনিরপেক্ষ সুদান গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।” যদিও এই শান্তিচুক্তি এতোটা সহজ হয়নি। কারণ- পিপলস্ লিবারেশন মুভমেন্টের বেশ কিছু শাখা সুদানকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে মানতে চায়নি।

রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ করার এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে দেশটির সাবেক শাসক ওমর আল বশিরের সমর্থকরা মেনে নিতে পারেননি। এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশের বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ করেন তারা।

গত সোমবার সুদানের অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সঙ্গে পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট (এসপিএলএম-এন) ও বিরোধী গ্রুপগুলোর একটি চুক্তি হয় রাজধানী জুবাতে। এই চুক্তি অনুসারে বিদ্রোহীরা মন্ত্রিসভার ৩৫ শতাংশে তাদের প্রতিনিধি দেবে, যার আসন সংখ্যা ৭৫।

৩০০ আসনের সংসদে সব পক্ষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হয় চুক্তিতে। এছাড়া চুক্তি অনুসারে দারফুরের মোট উপার্জনের ৪০ শতাংশ দারফুরের জনগণের জন্য বরাদ্দ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০ শতাংশ নিয়োগ সুবিধা দেওয়া হয়।

ওই অঞ্চলের শান্তি ও সংঘাত সম্পর্কিত বিশ্লেষকদের মতে, সুদানের অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দেশটির বিবদমান সব পক্ষকে নিয়ে সরকার পরিচালনা করতে চাইছে। কিন্তু এই পরিচালনার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করায় দেশটিতে আমলাতন্ত্র মাথাচাড়া দিতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। কারণ পার্শ্ববর্তী দেশ দক্ষিণ সুদানের বাস্তবতায় আমলাতন্ত্র বনাম সেনাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

0 Shares