আল্লাহকে ভয় করলে আপনি অবশ্যই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন: আফ্রিদি

0 Shares

মাঠের ক্রিকেটে আগ্রাসী। ব্যাট হাতে তো বুম বুম আখ্যা পেয়েছিলেনই, বল হাতেও বেশ আক্রমনাত্মক ছিলেন পা’কিস্তানি তারকা শহীদ আফ্রিদি। মাঠের বাইরে কথাবার্তায়ও বেশ চাঁচাছোলা এই ক্রিকেটার।

বিভিন্ন সময়ই কথার বোমা ফাটিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব- অমীমাংসিত কাশ্মীর ইস্যুতেও প্রায়ই মুখ খুলেন তিনি।

আর কথায় কোনো রাখঢাক না রাখা আফ্রিদির সেসব কথায় রাগে-ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ভারতীয়রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই সেসব নজরে আসবে।

এবার সামনাসামনি পেয়ে সরাসরি আফ্রিদিকে জিজ্ঞেস করেই বসলেন সাংবাদিকরা, তোপের মুখে পড়ার পরও রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা বলেন কেন তিনি? এবারও আফ্রিদির জবাবটা সোজাসাপ্টা।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি একজন সত্যিকারের মুসলমান হলে, আল্লাহকে ভয় করলে আপনি সব সময়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। কেবল ইসলাম নয়, সব ধর্মই শিক্ষা দেয় মানবতার।

একইসঙ্গে আপনাকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দেয় ধর্ম। কোন ধর্ম কিংবা দেশের বিষয় নয় এটি।আমি যেখানেই অন্যায় দেখবো সেখানেই তার প্রতিবাদ জানাবো। তাতে কে খুশি হলো আর কে অখুশি হলো তাতে আমার কিছু এসে যায় না।

আরো পড়ুন: এবার আয়া সোফিয়ায় শুরু হচ্ছে মাদরাসা ও কুরআন শিক্ষা !

দীর্ঘ ৮৬ বছর পর গত ২৪ জুলাই তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুমআ আদায়ের মাধ্যমে পুনরায় নামাজ শুরু হয়। এবার আয়া সোফিয়ায় শুরু হচ্ছে মাদরাসা ও কুরআন শিক্ষা।

সেখানে শেখানো হবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনুল কারিম। খবর ডেইলি সাবাহ আরবির। ৯১৬ ধরে গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয় তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া। অতপর ৪৮৩ বছর মসজিদ হিসেবে ব্যবহার হয় এ ঐতিহাসিক স্থাপনা। অবশেষ গত ৮৬ বছর ধরে মসজিদের পরিবর্তে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গত ১০ জুলাই আদালতের এক রায়ের মাধ্যমে এটিকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক রায় দেন আদালত। আদালতের রায়ের আলোকে গত ২৪ জুলাই পবিত্র জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নামাজ পড়া শুরু হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান এ দিন কুরআন তেলাওয়াত করেন।

মসজিদের ইমাম তরবারি হাতে ‍নিয়ে খুতবা দেন। তরবারি হাতে ইমামের খুতবা প্রসঙ্গে দেশটির ধর্মীয় নেতা বলেন, জুমআর নামাজের সময় তরবারি হাতে নিয়ে খুতবা দেয়া আমাদের ঐতিহ্য। এটি আমাদের বিজয়ের নিশানা।

আয়া সোফিয়ায় শুক্রবার জুমআর নামাজ পড়ানোর পর তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রধান আলি ইরবাস সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্কে প্রায় পাঁচশ বছর তরবারি হাতে খুতবা দেয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এখন থেকে আমাদের এ ঐতিহ্য আবার ধারণ করব।

ধর্মীয় নেতা বলেন, আমি আশা করি, অনেক লোক এ মসজিদে নামাজ পড়বেন। তারা তাদের ধর্ম এখান থেকে শিখবেন। আমরা আয়া সোফিয়ায় মাদরাসাও পুনরায় চালু করব। যেভাবে আয়া সোফিয়ার প্রতিটি কোনে কোনে এক সময় কুরআন শেখানো হতো, এখন আবার আয়া সোফিয়ায় কুরআন শেখানো হবে।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া তুরস্কের ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য অন্যতম পছন্দের জায়গা। ১৯৮৫ সালে আয়া সোফিয়াকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ লিস্টে যুক্ত করা হয়। তুরস্কে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং অন্যান্য তুর্কি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে প্রত্যাবর্তনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

অবশেষে গত ১০ জুলাই তুরস্কের একটি কোর্ট ১৯৩৪ সাল আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন, যা আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করা পথকে সহজ করে দেয়। প্রত্মতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে স্থাপনাটি আগের মতো পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে

0 Shares