বাবুনগরী পেলেন ৩ ভোট: আল্লামা শফীর রুহের বদদোয়া- বলছেন অনুসারীরা

0 Shares

আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর শুন্য হওয়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড- বেফাকের নেতৃত্ব ঠিক করতে বৈঠকে বসেছিলেন কওমি আলেমরা। আর সেখানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

আজ শনিবার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় বেফাকের মজলিসে আমেলার বৈঠকে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তবে নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর মাত্র ৩ ভোট পাওয়ার ঘটনা।

আর এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বদদোয়ার কারণেই বাবুনগরী ৩ ভোট পেয়েছেন। কওমি সমর্থকগোষ্ঠী ফেসবুক পেজে শাহ শফীর অনুসারীরা বলছেন, সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। আমাদের মাথার মুকুট হযরত শফী হুজুরের শানে বেয়াদবি করছেন বাবুনগরী সাহেব। হুজুরের ইন্তেকালের পেছনে একমাত্র দায়ী তিনি। হুজুরকে হুম’কি দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন, এরপরই তিনি অসুস্থ হন। তারপর অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়ে হুজুরকে মৃ’ত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়। এজন্যই হুজুরের রুহের বদদোয়া পড়েছে বাবুনগরী সাহেবের ওপর। এ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ জামাত শিবিরের ইন্ধনপুষ্ট বাবুনগরী গংয়ের।

শনিবার দুপুরে বেফাকের কয়েকজন আমেলার সদস্য বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমেলার বৈঠকে প্রায় ১২৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ব্যালটবাক্সের গণনা অনুযায়ী আল্লামা মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ৬৪ ভোট। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৫০ ভোট। আর হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পেয়েছেন মাত্র ৩ ভোট।

এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন বেফাকের সহসভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস। সঙ্গে ছিলেন খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নূরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জের মাদ্রাসায়ে নূরে মদিনার মুহতামিম আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী ও ঢালকানগর মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা জাফর আহমদ।

প্রসঙ্গত, কওমি মাদ্রাসার সরকার স্বীকৃত সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেফাকের সভাপতিই হবেন আল-হাইয়াতুল উলইয়ার সভাপতি। একইভাবে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি হবেন আল হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান। সে হিসেবে বেফাকের শুন্য পদগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে খালি হওয়া আল হাইয়াতুল উলইয়ার পদও পূর্ণ করা হয়।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস গতকাল জানিয়েছিলেন, আমি মনে করি বেফাকের অতীত ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার জন্য এমন কেউ দায়িত্বে আসা উচিত যিনি শুরু থেকে বেফাকের জন্য শ্রম-ঘাম দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেফাকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আছে, অথবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এমন কাউকে বেফাকের এই শীর্ষপদগুলোতে রাখা হয় না।

0 Shares