আমেরিকাকে শিক্ষা দিতে চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ইরান!

0 Shares

বাণিজ্য ক্ষেত্রে ডলারের লেনদেন বাদ দেয়া এবং অবৈধ ও এক তরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকা মোহাম্মদি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২৫ বছরের এই রোড ম্যাপ চুক্তির চেয়েও বেশি কিছু। চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট একটি বিষয় থাকে কিন্তু এই রোডম্যাপ আরো বেশি বিস্তৃত।

আলী আকা মোহাম্মদি বলেন, তৃতীয় পক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া অংশীদারিত্বের এই রোড ম্যাপ দু দেশের অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। ইরান এবং চীনের ওপর যেসব ক্ষেত্রে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই চুক্তি তা থেকে সুরক্ষা দেবে এবং দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, ইরান এবং চীনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক আমেরিকা তা চায় না, কিন্তু এই রোড ম্যাপ মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ব্যর্থ করে দেবে। ইরান ও চীনের মধ্যে এই চুক্তি সই হলে ইরানের বিভিন্ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি ডলারের চীনা বিনিয়োগ হবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অর্থহীন হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: পার্সটুডে

আয়াসোফিয়া নিয়ে পশ্চিমাদের বিরোধিতার পাত্তাই দিলেন না এরদোগান

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া-কে তুরস্কের আদালতের রায়ের মাধ্যমে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পর পশ্চিমাদের কঠোর বিরোধিতার কোনো পাত্তাই দেননি দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

গত শনিবার(১১জুলাই) একটি ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দানকালে আয়াসোফিয়া নিয়ে পশ্চিমাদের বিরোধিতার জবাবে এরদোগান বলেন, ‘যারা নিজেদের দেশে ইসলামভীতির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয় না, তারাই তুরস্কের সার্বভৌমত্বের ক্ষমতা প্রয়োগের ওপর আঘাত করছে।

এই সিদ্ধান্তটি সার্বভৌমত্বের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।’

গেলো শুক্রবার (১০জুলাই) তুরস্কের শীর্ষ আদালত ১৯৩৪ সালের ক্ষমতাসীন কামাল আতাতুর্কের সিদ্ধান্তকে বাতিল ঘোষণা করে আয়াসোফিয়া-কে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদ হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন।

ওই রায়ের পরই প্রেসিডেন্ট এরদোগান আয়াসোফিয়া-কে পুনরায় মসজিদ হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফরমানে স্বাক্ষর প্রদান করেন।

ফরমানটির একটি অনুলিপি ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে তিনি প্রকাশ করে বলেন, আয়াসোফিয়া জামে মসজিদে আমরা আপনাদের মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

জামে মসজিদ হিসেবে আয়াসোফিয়ার ফিরে আসা হল, বিশ্বের সকল মুসলিমদের প্রতি একটি বার্তা যে, আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আবার ফিরে আসব এবং আমাদের পবিত্র জায়গা সমূহ রক্ষা করব।

প্রায় পাঁচশত বছরের স্মৃতি বিজড়িত এ মসজিদকে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরে তুর্কি আদালতের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরোধিতায় উঠেপড়ে লেগেছে পশ্চিমা বিশ্ব।

এ বিরোধিতায় প্রকাশ্যে নাম লেখিয়েছে আমেরিকা, রাশিয়া, গ্রিস, ফ্রান্স,ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চ-সহ মুসলিম বিরোধী শক্তিগুলো।

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরোধিতা করে এক বিবৃতিতে বলেন, তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত খুবই হতাশাজনক। তুরস্ক এব্যাপারে আমেরিকাকে খুবই হতাশ করেছে।

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকোর জবানিতে রাশিয়া বলছে, তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে মস্কো খুবই মর্মাহত।

তুরস্কের শীর্ষ আদালতের এ রায়কে চরম দুঃখজনক ব্যাপার মনে করছে ফ্রান্স।

অপরদিকে গ্রীস তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে উস্কানিমূলক আখ্যায়িত করে এরদোগানের বিরোধিতায় জোরেশোরে মুখ ফোলাচ্ছে।

এদিকে বসে নেই চার্চগুলো। কেউ দুঃখ প্রকাশ করে আদালতের রায়কে প্রত্যাখান করে নিতে অনুরোধ জানাচ্ছে। কেউবা জোরগলায় বিরোধিতার মাঠ কাপাচ্ছেন।

গীর্জাসমূহের বৈশ্বিক সংঘটন ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চস এরদোগানকে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে তাদের দুঃখ ও হতাশার কথাটি উল্লেখ করেন। এরদোগানের কাছে তাদের বিনীত অনুরোধ, তিনি যেন আয়াসোফিয়া-কে মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নেন।

রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের বাহ্যিক সম্পর্কোন্নয়ন বিভাগের প্রধান ও প্রভাবশালী বিশপ হিলারিয়নও তুর্কি আদালতের এই সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গত শুক্রবার রাশিয়ার সরকারি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দানকালে তিনি বলেন, তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় আঘাত। কেননা আমাদের নিকট আয়াসোফিয়া যিশুখ্রিস্টের জন্য উৎসর্গীত একটি পবিত্র ক্যাথিড্রাল।

আয়াসোফিয়া নিয়ে তুর্কী নেতৃবৃন্দের মতামত

জার্মান মার্শাল তহবিলের আঙ্কারা ব্রাঞ্চের পরিচালক ওজগুর উনলুইসারসিকলি এএফপিকে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আয়াসোফিয়া নিয়ে আদালতের এই রায়ে তুর্কি ঘরে ঘরে আনন্দ ভেসে উঠবে। কারণ, বেশিরভাগ তুর্কি নাগরিক ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী মনোভাবে বিশ্বাসী হওয়ায় তাদের শতভাগই এধরণের সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকবে। সুতরাং জনরোষের কোনো সম্ভাবনা নেই।

জাতীয় ইস্যু হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ট্যুরিস্টদের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন এরদোগান

প্রেসিডেন্ট এরদোগান জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে বলেছিলেন, আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করা হলেও নামাজের জন্য এবং মুসলিম, অমুসলিম বিশ্বের সকল ট্যুরিস্টদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। ট্যুরিস্টদের উদ্দেশ্য করে তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন,সাময়িক সময়ের জন্য সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

এরদোগানের প্রেস সচিব ফাহরেত্তিন আলতুন তার ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে আয়াসোফিয়া সকল ধর্মের লোকজনের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিকে আরো দৃঢ় করেন। তিনি বলেন,বিখ্যাত ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করা হলেও বিশ্বের সকল ধর্মের ট্যুরিস্টদের জন্য যেমনিভাবে উন্মুক্ত রাখা হয় এবং তারা সেই মসজিদগুলো ঘুরে দেখতে পারেন, ঠিক তেমনি আয়াসোফিয়াতেও নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি সকল ধর্মের ট্যুরিস্টদের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হবে।

সূত্র : আল জাজিরা

0 Shares